
পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক :
এমপিওভুক্ত কলেজ, স্কুল ও মাদরাসায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-কে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
গেল সোমবার মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সহকারী অধ্যাপক ও সিনিয়র শিক্ষকের অপশন বাতিলের কথাও জানান।
পূর্বের নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক
সম্প্রতি প্রকাশিত নীতিমালায় অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের জন্য তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়। এতে অধ্যক্ষ পদের জন্য উপাধ্যক্ষ হিসেবে অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৫ বছরের শিক্ষকতা এবং উপাধ্যক্ষ পদের জন্য সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১২ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান রাখা হয়েছিল।
এ নিয়ে বেসরকারি শিক্ষকদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, যোগ্যতার মানদণ্ড এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল যাতে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী বেশি সুবিধা পায়। তারা দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্কুল ও মাদরাসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য
সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী— কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক, মাদরাসার প্রধান পদ—সবক্ষেত্রেই ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক হবে।
এর আগে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য ১০ বছর এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের জন্য বিভিন্ন ধাপে ১৫–১৭ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞতার মান একীভূত করা হচ্ছে।
স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়নের লক্ষ্য
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
সংশোধিত নীতিমালা শিগগিরই প্রকাশিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।