
২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি, পাঠপরিকল্পনা, অতিরিক্ত পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের করণীয় নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত সভাপতি, শিক্ষাবিদ মো. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবাদী লেখক শমশের আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কসবা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল আলম সেলিম (বিদ্যোৎসাহী সদস্য), শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবং প্রস্তাবিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হাফিজ এমাদ উদ্দিন (প্রাক্তন কাউন্সিলর)। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ছাদিয়া চৌধুরীর (সচিব) তত্ত্বাবধানে এবং শিক্ষক প্রতিনিধি সাহেদা আক্তারের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞ শিক্ষক তাহির উদ্দিন, নাজিয়া আক্তার কলি (বিদ্যোৎসাহী মহিলা সদস্য), মো. মাসুক আহমদ (জমিদাতা সদস্য), সাহেদা আক্তার (শিক্ষক প্রতিনিধি) এবং অভিভাবক সদস্য রোমানা বেগম ও মোছা. আবিদা আক্তার মুন্নি।
সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজচিন্তক মো. আতাউর রহমান বলেন,”একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাণ হলো তার শিক্ষকবৃন্দ। তাঁদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধই শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রধান ভিত্তি। আমাদের লক্ষ্য শুধু বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি নয়; বরং প্রতিটি শিক্ষার্থীর সুপ্ত মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত করা। একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৫ম শ্রেণির ৪৯ জন শিক্ষার্থীকে তাদের মেধা, শিক্ষাগত অগ্রগতি ও বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় দুইটি পৃথক শাখায় বিভক্ত করে পাঠদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে পরিকল্পিত পাঠদান, নিবিড় তদারকি ও নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনার বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিবাদী লেখক শমশের আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিকল্পিত পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন, নিবিড় তদারকি, অভিভাবকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক যত্নশীলতাই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের পথ সুগম করবে। শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও ফলাফলের দিক থেকে একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।
সভায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বপন আহমদ, রোকসানা বেগম লিপি, ফারজানা বেগম, হামিদা খানম, দিলারা খানম, রুমেনা আক্তার রুমি, দিলারা বেগম, রেহানা বেগম, রোজী কুম, রোমানা বেগম, মারযেদা কুম, লাকি বেগম, জাসমিন নাহার, সুফিয়া বেগম, জাহিদা আক্তার প্রমুখ।
সভায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা চর্চা, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ়করণ, শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত হোম ভিজিট ও তদারকি বৃদ্ধি এবং সরকারি শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অভিভাবকদের করণীয় বিষয়ে ১০ দফা নির্দেশনাসংবলিত একটি লিফলেট অভিভাবকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এতে সন্তানের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, বাসায় পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, বাড়ির কাজ তদারকি, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় বিনোদনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত অভিভাবকবৃন্দ বিদ্যালয়ের গৃহীত কর্মপরিকল্পনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। সভার শেষে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত উদ্যোগে ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি