
বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম পার্থ চক্রবর্তীর সাক্ষাৎকার নিলেন পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক
আতাউর রহমান :
জুন-২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়েই বিয়ানীবাজারের অনেক গ্রাহক পড়েছেন চরম বিভ্রান্তিতে। একই সংযোগে কয়েক মাসের মধ্যে বিলের খাত, উপস্থাপনা ও হিসাবের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। নতুন ট্যারিফ সংযোজনের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে আবাসিক গ্রাহকের বিল বাণিজ্যিক ফরম্যাটে প্রস্তুত হওয়ায় বিলের বিভিন্ন খাত সাধারণ গ্রাহকের কাছে অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে প্রকৃত বিলের হিসাব বুঝতে না পেরে অনেকেই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পঞ্চখণ্ড আই-এর সরেজমিন অনুসন্ধানে খাসা এলাকার একটি আবাসিক CT মিটারের বিল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে শূন্য ইউনিট ব্যবহারের পরও বিল এসেছে ১,১১৫ টাকা, মে মাসে মাত্র ৩০ ইউনিট ব্যবহারে বিল হয়েছে ১,২৬১ টাকা এবং জুন মাসে ৩১৬ ইউনিট ব্যবহারে বিল দাঁড়িয়েছে ৪,১৩৯ টাকা। বিলে এনার্জি চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, পাওয়ার ফ্যাক্টর (পি.এফ.) সারচার্জ, মিটার চার্জ ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাত উল্লেখ থাকলেও হিসাবের ভিত্তি সাধারণ গ্রাহকের কাছে সহজে বোধগম্য নয়।
একই মিটারে কয়েক মাসের ব্যবধানে বিলের এমন পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম পার্থ চক্রবর্তী বলেন, এটি CT মিটারের বিলিং পদ্ধতির কারণেই হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সংযোগটির অনুমোদিত ডিমান্ড ৩৫ কিলোওয়াট হলেও বর্তমানে ২৩ কিলোওয়াট বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) অনুমোদিত ট্যারিফ অনুযায়ী প্রতি কিলোওয়াটে ৪২ টাকা হারে মাসিক ডিমান্ড চার্জ প্রযোজ্য। ফলে কোনো মাসে এনার্জি ব্যবহার শূন্য হলেও এই সংযোগে প্রতি মাসে ৯৬৬ টাকা ডিমান্ড চার্জ পরিশোধ করতে হবে।
ডিজিএম আরও জানান, সংশ্লিষ্ট CT মিটারের আওতায় চারটি সাব-মিটার রয়েছে। এসব সাব-মিটারের মোট ব্যবহার CT মিটারের রিডিং থেকে সমন্বয় করে মূল (সেন্ট্রাল) বিল প্রস্তুত করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুন মাসে চারটি সাব-মিটারের মধ্যে একটি সচল ছিল এবং প্রায় ২০০ ইউনিট ব্যবহার রেকর্ড করেছে। তবে বাকি তিনটি সাব-মিটার অচল থাকায় সেগুলোর ক্ষেত্রে গড় (Average) ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ করা হয়েছে। মিটার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত একই পদ্ধতিতে বিল প্রস্তুত হবে। তাই গ্রাহকদের দ্রুত অচল মিটার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জুন মাসের বিলে নতুন ট্যারিফ সংযোজন এবং অনেক আবাসিক গ্রাহকের বিল বাণিজ্যিক ফরম্যাটে প্রস্তুত হওয়ায় যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, সে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন ডিজিএম পার্থ চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, “এ অভিযোগ সঠিক। নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার কারণে এবং বিলিং ফরম্যাটে পরিবর্তনের ফলে কিছু অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। যেসব গ্রাহকের বিলে এ ধরনের সমস্যা রয়েছে, তারা অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে দেওয়া হবে।”
গ্রাহক সেবার বিষয়ে তিনি জানান, বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসে ‘ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিস’ চালু রয়েছে। বিল সংক্রান্ত কোনো ভুল, অস্পষ্টতা বা অভিযোগ থাকলে গ্রাহকরা সেখানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারবেন।
তবে বিভিন্ন গ্রাহকের অভিযোগ, বিলের খাত সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে। এ বিষয়ে ডিজিএম বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, নতুন ট্যারিফ, পরিবর্তিত বিলিং ফরম্যাট এবং CT মিটারের জটিল বিলিং পদ্ধতি সম্পর্কে অধিকাংশ গ্রাহকের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে বিদ্যুৎ বিলের প্রতিটি খাতের ব্যাখ্যা আরও স্বচ্ছ ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন, বিলিং ফরম্যাটে সামঞ্জস্য আনা এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন গ্রাহকরা।