রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ওষুধের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা রোগী, চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে বিপাকে বিয়ানীবাজারের মানুষ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ, অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত বিয়ানীবাজারের জনজীবন জাতির বিবেককে সম্মান: রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার অপরিহার্য শর্ত স্বপ্নপূরণের অনন্য দৃষ্টান্ত: শ্রীধরার সন্তান ফরহাদ আহমদ লিমন এখন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ অফিসার জুড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসফেরত যুবকের মৃত্যু এপেক্স ক্লাব অব জুড়ী ভ্যালির ১৭তম পালাবদল অনুষ্ঠিত বক্তৃতা আর হুমকির ঘোরপাকে জাতি কি এগিয়ে যাবে? বাগিরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন শিক্ষানুরাগী বিলাল উদ্দিন আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান শিশু সাময়িক বরখাস্ত বিয়ানীবাজারে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ চিত্র

ওষুধের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা রোগী, চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে বিপাকে বিয়ানীবাজারের মানুষ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক::
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। চিকিৎসকের চেম্বার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং শেষে ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধের বাড়তি দাম দেখে হতাশ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য চিকিৎসা এখন এক বড় অর্থনৈতিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কিনতেই অনেকের কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষার খরচ এবং ওষুধের মূল্য—সব মিলিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার এক রোগীর স্বজন বলেন, “আগে যে ওষুধ ৪৫-৫০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটি ৬০-৭০ টাকা দিতে হচ্ছে। সংসারের খরচ চালিয়েই হিমশিম খেতে হয়, তার ওপর চিকিৎসার এত ব্যয় বহন করা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।”

বিয়ানীবাজার পৌর শহরের বিভিন্ন ফার্মেসি সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরে অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধের মূল্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

স্থানীয় বাজারে ঘুরে দেখা যায়—
● নাপা সিরাপ ও বিভিন্ন ধরনের প্যারাসিটামলের দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

● গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, বিশেষ করে এসোমেপ্রাজল ও সেকলো জাতীয় ওষুধের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

● উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ওষুধ যেমন লোসারটান, অ্যামলোডিপাইন, অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধের দামও আগের তুলনায় বেশি।

● অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যালার্জির ওষুধ এবং বিভিন্ন ভিটামিনের দামও কয়েক দফায় বেড়েছে।

ওষুধের বাড়তি ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারছে না। কেউ কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্ণমাত্রার ওষুধও কিনতে পারছেন না। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বিয়ানীবাজারের কয়েকজন ফার্মেসি মালিক জানান, তারা ওষুধ কোম্পানির নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ীই ওষুধ বিক্রি করেন। নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। কোম্পানি যে দামে সরবরাহ করে, সেই অনুযায়ী বাজারে বিক্রি করতে হয়।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো ফার্মেসি অতিরিক্ত মূল্য আদায় করলে তা আইনত দণ্ডনীয়।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য ও সহনীয় মূল্যে নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews