রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
চারখাইয়ের আত্মসম্মান বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা—মডেল মসজিদের সিদ্ধান্ত হোক বিয়ানীবাজারের স্বার্থে সিলেটি ভাষাকে অপমান মানে:  বাংলাদেশের বহুত্বকেই অপমান আইন ও ন্যায়ের সংসদীয় অঙ্গনে এমরান আহমদ চৌধুরীর নতুন অধ্যায় বিয়ানীবাজারে জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদ বাস্তবায়নে অগ্রযাত্রা: আজ ইউএনও বরাবর ৬৫ শতক ভূমির প্রস্তাব পেশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন হত্যায় গ্রেফতার ১ দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সভাপতি মনোনীত হলেন রোটারিয়ান মো. ফয়জুল ইসলাম বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদ: এক সপ্তাহের মধ্যে স্থান নির্ধারণ হলে উপজেলা সদরেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আশ্বাস: এমপি এমরান চৌধুরী UNB বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ডে মিলাদ মোহাম্মদ জয়নুল ইসলামকে অভিনন্দন

জাতির বিবেককে সম্মান: রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার অপরিহার্য শর্ত

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ১০৯ বার পড়া হয়েছে

মো. বিলাল উদ্দিন

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশাও নতুন করে জন্ম নেয়। একটি নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রধান চাওয়া থাকে—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুশাসনের বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। এসব প্রত্যাশা পূরণ হলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা দৃঢ় হয় এবং উন্নয়নের পথ সুদৃঢ় হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে কিছু ঘটনা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা, বিচারপ্রক্রিয়া, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব বিষয় নিয়ে মতবিনিময় ও আত্মসমালোচনা দুর্বলতার নয়; বরং সুস্থ রাষ্ট্রচর্চারই অংশ।

বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, সমাজের গুণীজন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন নিয়ে জনপরিসরে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, গবেষক কিংবা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের মাধ্যমে যে সম্মান অর্জন করেন, তা মূলত তাঁর মেধা, সততা ও অবদানের স্বীকৃতি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে, তবে সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির পেশাগত অবদান ও মর্যাদা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়—এটি নিশ্চিত করা জরুরি।

জাতীয় জীবনে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহের মতো ব্যক্তিত্ব কিংবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ প্রশাসকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের সম্পদ। তাঁদের অবদানকে সম্মান জানানো রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে এবং নতুন প্রজন্মকে মেধা ও সততার মূল্য উপলব্ধি করতে সহায়তা করে।

একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার সংবিধান ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকলেই জাতীয় ঐক্য আরও সুসংহত হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে সেই ভিন্নতা যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সংলাপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শালীনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ, উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—যোগ্যতার মর্যাদা দেওয়া, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো এবং মতের বৈচিত্র্যকে ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত করা।

আজ প্রয়োজন এমন একটি রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি, যেখানে ব্যক্তি নয়, মূল্যবোধ প্রাধান্য পাবে; বিভাজন নয়, সহযোগিতার চর্চা হবে; এবং গুণীজনদের সম্মান জানানো হবে জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে। কারণ, যে জাতি তার জ্ঞানী ও কৃতী মানুষদের মর্যাদা দিতে জানে, সেই জাতিই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অধিক সক্ষম হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews