রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
চারখাইয়ের আত্মসম্মান বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা—মডেল মসজিদের সিদ্ধান্ত হোক বিয়ানীবাজারের স্বার্থে সিলেটি ভাষাকে অপমান মানে:  বাংলাদেশের বহুত্বকেই অপমান আইন ও ন্যায়ের সংসদীয় অঙ্গনে এমরান আহমদ চৌধুরীর নতুন অধ্যায় বিয়ানীবাজারে জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদ বাস্তবায়নে অগ্রযাত্রা: আজ ইউএনও বরাবর ৬৫ শতক ভূমির প্রস্তাব পেশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন হত্যায় গ্রেফতার ১ দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সভাপতি মনোনীত হলেন রোটারিয়ান মো. ফয়জুল ইসলাম বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদ: এক সপ্তাহের মধ্যে স্থান নির্ধারণ হলে উপজেলা সদরেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আশ্বাস: এমপি এমরান চৌধুরী UNB বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ডে মিলাদ মোহাম্মদ জয়নুল ইসলামকে অভিনন্দন

ইনহাউজ কোচিং: শিক্ষার মানোন্নয়নে সময়োপযোগী উদ্যোগ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

লেখক-Π আতাউর রহমান

সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহাউজ কোচিং বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য শিক্ষা অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত উন্নয়ন ও পরীক্ষার ফলাফল বৃদ্ধির জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করলেও পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ে। আবার অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি কোচিং সেন্টারের দ্বারস্থ হন। ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর যেমন অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়, তেমনি শিক্ষার ক্ষেত্রেও বৈষম্য তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়ভিত্তিক বা ইনহাউজ কোচিং হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান। বিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকরা যখন নিজেদের শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে অতিরিক্ত পাঠদান করবেন, তখন শিক্ষার্থীরা অধিক উপকৃত হবে। কারণ বাইরের কোচিংয়ের তুলনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং মানসিক অবস্থা সম্পর্কে বেশি অবগত থাকেন।

বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার আগে পুনরাবৃত্তিমূলক পাঠ, মডেল টেস্ট, প্রশ্ন বিশ্লেষণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করবে ইনহাউজ কোচিং। এতে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং পরীক্ষার ফলাফল আরও উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।
তবে এই উদ্যোগ সফল করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রথমত, এটি যেন কোনোভাবেই বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত না হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে একটি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করতে হবে। তৃতীয়ত, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষা কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করার বিষয় নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ গঠনের প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ইনহাউজ কোচিং একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে দেশের প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইনহাউজ কোচিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত।

শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews