
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: বিয়ানীবাজার উপজেলায় জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব আবুল কাহের চৌধুরী।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি। সজল চৌধুরী ও সাংবাদিক তুরাবের রক্তের বিনিময়ে আজ সরকার গঠিত হয়েছে।”
জেলা পরিষদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সিলেট বিভাগের ১৩টি উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নয়নকাজ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান জোট সরকার দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সিলেট বিভাগের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একনেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিয়ানীবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, গত চার মাসে বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ৫০টি উন্নয়ন প্রকল্প টেন্ডার পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জকে উন্নয়নকাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া ও মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সামাজিক ও জনমত গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, “উন্নয়নের সরকার।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য নজরুল হোসেন, শিক্ষাবিদ ও লেখক আতাউর রহমান, সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান, জেলা বিএনপি নেতা ছিদ্দিক আহমদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা, পঞ্চখণ্ড গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরির সম্পাদক শাহেদ আহমদ, রাজনীতিবিদ আব্দুল ফাত্তাহ, মুফতি মুজিবুর রহমান, আব্দুল করিম হক্কানি, সঞ্জয় কর, বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল, সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির স্থগিত সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা নেতা ছরওয়ার হোসেন, তিলপারা বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম সায়েখসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বিয়ানীবাজার উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।