
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিয়ানীবাজার:
বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে খাসাড়িপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ৬৫ শতক ভূমি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব প্রেরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন পেশ করেছে ‘বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগ’।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৩টায় বিয়ানীবাজার উপজেলা কনফারেন্স হলে সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদারের কাছে আবেদনটি পেশ করা হয়।
আবেদনে খাসাড়িপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রস্তাবিত ০.৬৫ একর (৬৫ শতক) ভূমি সরকারি গাইডলাইনের আলোকে যাচাই করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত ভূমির মধ্যে খাসাড়িপাড়া মৌজার জে.এল. নং-১০২-এর বিভিন্ন খতিয়ান ও দাগভুক্ত ০.৫৩ একর (৫৩ শতক) এবং খতিয়ান নং-১৩২, দাগ নং-১২৭-এর মসজিদের নামে রেকর্ডীয় ০.১২ একর (১২ শতক) ভূমি রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত ভূমির পরিমাণ ৬৫ শতক।
নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত স্থানটি জনবহুল এলাকা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন হওয়ায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জন্য সম্ভাব্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনাযোগ্য। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি গাইডলাইন, ভূমির রেকর্ড ও মালিকানা, পরিমাণ, শ্রেণি, অবস্থান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যান্য শর্ত যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই গ্রহণ করবে।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট উপজেলা কনফারেন্স হলে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মডেল মসজিদের সম্ভাব্য স্থান দ্রুত যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সদস্য স্বল্প সময়ের মধ্যে উপযুক্ত স্থান চূড়ান্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন এবং উপজেলা সদরে জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ আগস্ট নাগরিক উদ্যোগের জরুরি সভায় খাসাড়িপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রস্তাবিত ৬৫ শতক ভূমিকে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়।
আবেদন পেশকালে নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান, সমন্বয়ক শাহেদ আহমদ ও সচিব মো. জমির হোসাইনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো নির্দিষ্ট স্থান চাপিয়ে দেওয়া নয়; সরকারি গাইডলাইন ও জনস্বার্থের সর্বোচ্চ বিবেচনায় সম্ভাব্য স্থান যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই তাদের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন মডেল মসজিদ প্রকল্পের বাস্তবায়নে আর যেন অযথা বিলম্ব না হয়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।