রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম : পঞ্চখণ্ডের গর্ব, ইতিহাসের আলোকবর্তিকা গুণীজনদের স্মরণে বিয়ানীবাজার সোস্যাল অর্গেনাইজেশনের ভাবগম্ভীর স্মরণসভা ইতিহাসের মুখোমুখি: আগস্টের আয়নায় বাংলাদেশ “আগে যোগ-বিয়োগ ও বাংলা পড়া শিখান, না পারলে ব্যবস্থা” — প্রাথমিক শিক্ষায় প্রতিমন্ত্রীর এক মাসের আল্টিমেটাম পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ঘিরে উত্তাল বিয়ানীবাজার গ্রামের রাজনৈতিক লোডশেডিং ও লৌকিকতা ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু: আবেদন চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, স্বাস্থ্যগত কারণে ৭ শ্রেণির ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন ৩১ জুলাই : সিলেটে তোফায়েল খানের ভোট প্রার্থনা শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতি শক্তিশালী হলে শক্তিশালী হবে গ্রাম: কৃতী সন্তান ড. খালেদ আহমেদ জাতীয় স্বীকৃতির আনন্দে মুখর খাসা: এমপি এমরানের একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি

আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম : পঞ্চখণ্ডের গর্ব, ইতিহাসের আলোকবর্তিকা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

আজ ২ আগস্ট। বিয়ানীবাজার তথা পঞ্চখণ্ডের কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম-এর ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে পঞ্চখণ্ড আই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এমন এক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বকে, যিনি তাঁর কর্ম, চিন্তা ও আদর্শের মাধ্যমে একটি জনপদের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন

ইতিহাসের প্রতিটি সংকটকালে কিছু মানুষ সামনে এসে জাতি ও সমাজকে পথ দেখান। আকাদ্দস সিরাজুল ইসলাম ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি জাতির মুক্তি কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নয়—কলম, চিন্তা ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মধ্য দিয়েও অর্জিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর সম্পাদনায় (ভারপ্রাপ্ত)  প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘মুক্ত বাংলা’ ছিল স্বাধীনতার পক্ষে এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংগ্রামের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

স্বাধীনতার পরও তিনি জনজীবনের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে। পাশাপাশি বিয়ানীবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতার ভিত রচনায় তাঁর অবদান ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ১৯৮২ সালে বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যে বীজ রোপণ করেছিলেন, তা আজও সাংবাদিকতার বিকাশে ফলপ্রসূ হয়ে আছে।

সাহিত্যেও তিনি ছিলেন স্বকীয়। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে মানুষের জীবন, সমাজের বাস্তবতা, দেশপ্রেম এবং সময়ের প্রতিচ্ছবি। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, একজন প্রকৃত সাহিত্যিক কখনো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নন; বরং সমাজের বিবেক হিসেবেই তিনি ইতিহাসে বেঁচে থাকেন।

আজকের প্রজন্মের জন্য আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের জীবন একটি মূল্যবান পাঠ। নীতি, আদর্শ, সাহস, দায়িত্ববোধ এবং সত্যের প্রতি অবিচল থাকার যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ব্যক্তি-স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

পঞ্চখণ্ড আই মনে করে, কৃতী মানুষের স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাঁদের জীবন, কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ ইতিহাসকে ধারণ করতে পারলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের শিকড়কে চিনতে পারবে।

২৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা মরহুম আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁর অবদান পঞ্চখণ্ড ও বিয়ানীবাজারের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ আমাদের সমাজ, সাংবাদিকতা ও জনজীবনে সত্য, ন্যায় এবং দেশপ্রেমের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকুক।

— সম্পাদক | পঞ্চখণ্ড আই
“ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনমানুষের কণ্ঠস্বর”

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews