লেখক-Π আতাউর রহমান
সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহাউজ কোচিং বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য শিক্ষা অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত উন্নয়ন ও পরীক্ষার ফলাফল বৃদ্ধির জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করলেও পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ে। আবার অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি কোচিং সেন্টারের দ্বারস্থ হন। ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর যেমন অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়, তেমনি শিক্ষার ক্ষেত্রেও বৈষম্য তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়ভিত্তিক বা ইনহাউজ কোচিং হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান। বিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকরা যখন নিজেদের শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে অতিরিক্ত পাঠদান করবেন, তখন শিক্ষার্থীরা অধিক উপকৃত হবে। কারণ বাইরের কোচিংয়ের তুলনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং মানসিক অবস্থা সম্পর্কে বেশি অবগত থাকেন।
বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার আগে পুনরাবৃত্তিমূলক পাঠ, মডেল টেস্ট, প্রশ্ন বিশ্লেষণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করবে ইনহাউজ কোচিং। এতে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং পরীক্ষার ফলাফল আরও উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।
তবে এই উদ্যোগ সফল করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রথমত, এটি যেন কোনোভাবেই বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত না হয়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে একটি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করতে হবে। তৃতীয়ত, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করার বিষয় নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ গঠনের প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ইনহাউজ কোচিং একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে দেশের প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইনহাউজ কোচিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত।
শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯