শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
আইন ও ন্যায়ের সংসদীয় অঙ্গনে এমরান আহমদ চৌধুরীর নতুন অধ্যায় বিয়ানীবাজারে জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদ বাস্তবায়নে অগ্রযাত্রা: আজ ইউএনও বরাবর ৬৫ শতক ভূমির প্রস্তাব পেশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন হত্যায় গ্রেফতার ১ দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সভাপতি মনোনীত হলেন রোটারিয়ান মো. ফয়জুল ইসলাম বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদ: এক সপ্তাহের মধ্যে স্থান নির্ধারণ হলে উপজেলা সদরেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আশ্বাস: এমপি এমরান চৌধুরী UNB বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ডে মিলাদ মোহাম্মদ জয়নুল ইসলামকে অভিনন্দন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এগিয়ে আসছে, একবারই আবেদনের প্রস্তাব এমপি মহোদয়ের টেলিফোন বার্তায় কর্মসূচি পরিবর্তন: মডেল মসজিদ নিয়ে মতবিনিময় সভা কাল ২৪ আগস্ট বাদ মাগরিব

আইন ও ন্যায়ের সংসদীয় অঙ্গনে এমরান আহমদ চৌধুরীর নতুন অধ্যায়

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

✍️ আতাউর রহমান 

জাতীয় সংসদে একজন আইনজীবীর জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সেই নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন।

২৭ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়। এতে অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। আইন পেশায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিবেচনায় এই দায়িত্ব যেমন মর্যাদার, তেমনি তাৎপর্যপূর্ণও।

একজন আইনজীবীর কাছে আইন শুধু পেশা নয়—আইন মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। সেই অভিজ্ঞতা যখন জাতীয় সংসদের আইন ও বিচারবিষয়ক আলোচনায় যুক্ত হয়, তখন ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি জনস্বার্থে কাজ করার একটি বড় ক্ষেত্রও তৈরি হয়।

রাজনীতি থেকে সংসদে

অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘদিনের। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাসসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট।

একজন নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে তাঁর যাত্রা শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

শেকড় থেকে জাতীয় অঙ্গনে

১৯৬৭ সালের ১ নভেম্বর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জের কতোয়ালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এমরান আহমদ চৌধুরী। তাঁর পিতা জিয়াউর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আফিয়া খাতুন চৌধুরী।

তিনি সৈয়দা নুরুননাহারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাঁদের দুই কন্যা—জায়নাহ চৌধুরী ও আরিবা বিনতে এমরান চৌধুরী।

গ্রামের মাটি থেকে উঠে এসে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা, এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়া—এই যাত্রা নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিযাত্রার প্রতিচ্ছবি।

নতুন দায়িত্বে নতুন প্রত্যাশা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর একটি। আইন প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, বিচারব্যবস্থা ও আইনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পেশাগত অভিজ্ঞতার সবচেয়ে কার্যকর প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

আমাদের প্রত্যাশা—তিনি শুধু দলীয় রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন আইনজীবী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার, ন্যায়বিচারের সহজপ্রাপ্যতা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আইনের অপব্যবহার এবং নাগরিক অধিকার—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সিলেট-৬-এর প্রত্যাশাও কম নয়

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কাছে তাঁদের প্রত্যাশা অনেক।

স্থানীয় উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় আইন ও বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রেও তিনি যেন তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটান—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

বিশেষ করে একজন আইনজীবী সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি যদি আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার এবং সংসদীয় জবাবদিহিতার প্রশ্নে দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, তাহলে তাঁর এই দায়িত্ব কেবল একটি পদমর্যাদা হয়ে থাকবে না; বরং তা জনস্বার্থে কার্যকর অবদানে পরিণত হবে।

দায়িত্বের মর্যাদা রক্ষাই এখন বড় কথা

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আনন্দ স্বাভাবিক। অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাও প্রাপ্য। কিন্তু যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে প্রত্যাশা এবং জবাবদিহিতাও সমানভাবে যুক্ত।

অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সামনে এখন সেই পরীক্ষার সময়—তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে তাঁর আইনজীবীসত্তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রতিনিধির দায়িত্বকে একসূত্রে গাঁথতে পারেন।

সিলেটের একজন সন্তান হিসেবে তাঁর সাফল্য যেমন সিলেটবাসীর জন্য গর্বের, তেমনি তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা সফলতা—দুটিই জনগণের মূল্যায়নের বিষয় হয়ে থাকবে।

তাই নতুন দায়িত্বে তাঁর প্রতি শুভকামনা রেখে বলতে চাই—আইন ও ন্যায়ের সংসদীয় অঙ্গনে আপনার নতুন অধ্যায় হোক মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পক্ষে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

আমদের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর নতুন দায়িত্বে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।

লেখক: ✍️ আতাউর রহমান | শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজচিন্তক।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews