
দীর্ঘদিন ধরে অবসরভাতা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত শিক্ষকদের জন্য সুখবর এসেছে। সরকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে ২০২২ সালের পর থেকে পাওনা না পাওয়া হাজার হাজার শিক্ষককে অবসর ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অবসরভাতা সংকট নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যেই এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অতীতে শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের কয়েক হাজার কোটি টাকা তসরুফ ও অনিয়মের কারণে বহু শিক্ষক তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসন্ন অর্থবছরে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষক নেতারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অবসরভাতা চালু ও বকেয়া অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং হাজারো শিক্ষক পরিবার আর্থিক স্বস্তি ফিরে পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানই করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই অবসর জীবনে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সরকারের নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা পরিবারের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।