
আস্থার সংকট কাটাতে চাই দৃশ্যমান তদন্ত
বিয়ানীবাজারে অল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত তিনটি আলোচিত মৃত্যু জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী তাওহীদা জান্নাত, যুবক সাদিকুল ইসলাম রূপক এবং অটোরিকশা চালক শামীম আহমদ ধনুর মৃত্যু—প্রতিটি ঘটনাই প্রথমদিকে আত্মহত্যা হিসেবে সামনে এলেও ঘটনাগুলোকে ঘিরে নানা প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

প্রশ্ন হলো, এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? এগুলো নিছক আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে? এর উত্তর অবশ্যই তদন্ত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ঘটনাগুলোর তদন্ত অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণ এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা পাচ্ছে না।
একটি সভ্য রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা নির্ভর করে কেবল অপরাধ দমনের ওপর নয়, বরং ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান তদন্তের ওপরও। যখন কোনো আলোচিত ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায় না, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়।
বিয়ানীবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও সেই বাস্তবতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন, অনুমান এবং পরস্পরবিরোধী তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রধান কারণ তথ্যের ঘাটতি। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও জনগণ অন্তত এটুকু জানতে চায় যে তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন কী অবস্থায় আছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আমরা বিশ্বাস করি, কোনো ব্যক্তিকে তদন্তের আগে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন অন্যায়, তেমনি কোনো ঘটনার সুরাহা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখাও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বিচার শুধু হতে হবে না, বিচার হচ্ছে—এই বিশ্বাসও মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
বিয়ানীবাজার থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি তাই জনস্বার্থে বিনীত আহ্বান—আলোচিত তিনটি মৃত্যুর তদন্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হোক। কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হোক, আর যদি অপরাধের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক।
মনে রাখতে হবে, প্রতিটি অমীমাংসিত মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের বেদনা নয়; এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে জড়িত। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
বিয়ানীবাজারের মানুষ আজ কোনো গুজবের বিচার চায় না, তারা চায় সত্যের অনুসন্ধান। তারা চায় এমন একটি তদন্ত, যার ফলাফল প্রশ্নের জন্ম দেবে না; বরং প্রশ্নের অবসান ঘটাবে।
সময়ের দাবি একটাই—স্বচ্ছ তদন্ত, দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।