বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজারে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ চিত্র

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

-Π সামিয়ান হাসান

শিক্ষকশূন্যতায় এক শিক্ষকেই চলছে ছয়টি শ্রেণি

বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের আব্দুল খালিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ শিক্ষক সংকটের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুমোদিত পাঁচটি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য। ফলে একজন সহকারী শিক্ষককেই পাঠদান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সব দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে একসময় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার মান নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই কমে বর্তমানে ২২ জনে নেমে এসেছে। আশপাশের অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

বর্তমানে সহকারী শিক্ষক নুসরাত আফরিন একাই প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। অফিসিয়াল কাজ বা উপজেলা সদরে কোনো সভায় অংশ নিতে হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

শুধু শিক্ষকতার দায়িত্বই নয়, বিদ্যালয়ে কোনো দপ্তরি না থাকায় প্রতিদিন বিদ্যালয় খোলা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ঘণ্টা বাজানো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজও তাঁকেই সম্পন্ন করতে হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছে, একজন শিক্ষকের পক্ষে সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিয়ে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় একাধিক শ্রেণিকে একসঙ্গে বসিয়ে ক্লাস নিতে হয়। এতে পাঠগ্রহণে বিঘ্ন ঘটে এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষক সংকট চলতে থাকায় বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী ভর্তির হারেও। দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ না হলে বিদ্যালয়টি আরও বড় সংকটে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

সহকারী শিক্ষক নুসরাত আফরিন বলেন, “একজন শিক্ষকের পক্ষে ছয়টি শ্রেণি পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন না হলে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ সরকার জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চারখাইয়ের এই বিদ্যালয়ের চিত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা। শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews