মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু: আবেদন চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, স্বাস্থ্যগত কারণে ৭ শ্রেণির ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন ৩১ জুলাই : সিলেটে তোফায়েল খানের ভোট প্রার্থনা শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতি শক্তিশালী হলে শক্তিশালী হবে গ্রাম: কৃতী সন্তান ড. খালেদ আহমেদ জাতীয় স্বীকৃতির আনন্দে মুখর খাসা: এমপি এমরানের একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি জনসংখ্যা দ্বিগুণ, জনবল সেই ১৯৮৪-এর: সংকটে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি বিয়ানীবাজার থানায় হয়রানি হতে দেব না, আইন সবার জন্য সমান: জনআস্থার প্রতীক হিসেবে থানাকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নবাগত ওসির শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি প্রস্তুতি বিষয়ক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত শাহজালাল সমবায়ে ঋণের অর্থ আটকে থাকার দাবি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির; অর্থ ফেরতের অপেক্ষায় হাজারো আমানতকারী যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর ভিসা নীতি: পড়াশোনা শেষে দেশ ছাড়তে সময় মাত্র ৩০ দিন

জনতার আস্থা থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বে: আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযাত্রা

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক-Π আতাউর রহমান
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আরিফুল হক চৌধুরী-এর উত্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানোর এক দীর্ঘ পথচলার প্রতিফলন। তাঁর হাতে ন্যস্ত হয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মতো দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর—যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও কোটি প্রবাসীর স্বার্থ।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির পথে
রাজনীতিতে তাঁর সূচনা ছাত্রজীবনে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর প্রতিষ্ঠালগ্নের কর্মী হিসেবে। পরবর্তী সময়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন, তারপর মূল দলে সাংগঠনিক ও নেতৃত্বের ভূমিকা—এসব ধাপ পেরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সিলেট অঞ্চলে একটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। দলীয় কাঠামোর ভেতরে তাঁর ক্রমোন্নতি ইঙ্গিত দেয় সংগঠননির্ভর রাজনীতির এক ধারাবাহিকতার দিকে, যা ব্যক্তিকেন্দ্রিক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দলীয় আস্থাকেও দৃঢ় করেছে।

নগর রাজনীতিতে উত্থান ও চ্যালেঞ্জ
স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল তাঁর জনপ্রতিনিধিত্বের প্রথম বড় মঞ্চ। পরে নগর উন্নয়ন কমিটির নেতৃত্বে থেকে এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান-এর উন্নয়ন দর্শনের সহযোগী হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন।

২০১৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র বদরুদ্দীন কামরান-কে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। এটি ছিল স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদল। তবে তাঁর মেয়াদকাল ছিল বিতর্ক ও প্রতিকূলতায় পূর্ণ। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে কারাবরণ—রাজনৈতিক জীবনে এক বড় ধাক্কা। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক সক্রিয়তায় ফিরে আসা তাঁর রাজনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

জনপ্রিয়তা বনাম প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা
দুই দফায় মেয়র নির্বাচিত হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তাঁর প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছিল—এমন অভিযোগ স্থানীয় মহলে ছিল। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া কিংবা বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতা—এসব প্রশ্ন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও আলোচনায় আনে। ২০২৩ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ না নেওয়াও দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি তাঁর আনুগত্যের ইঙ্গিত দেয়।

সংসদ সদস্য থেকে পূর্ণ মন্ত্রী
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে স্বল্প প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান খাত আজ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও শ্রম অধিকার ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। একইসঙ্গে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এই দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে নীতি-সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং প্রবাসী সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা—এসবই হবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রত্যাশা ও বাস্তবতার পরীক্ষা
রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আসা এক নেতার সামনে এখন নীতিনির্ধারণী দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার সময়। তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিক হিসেবে তিনি মাঠের বাস্তবতা জানেন—এটি তাঁর শক্তি। তবে জাতীয় পর্যায়ে সফল হতে প্রয়োজন প্রশাসনিক সমন্বয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বোঝাপড়া এবং শ্রমবাজারের কাঠামোগত সংস্কার।

সিলেট-৪-এর ভোটাররা তাঁকে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশায়। দেশের শ্রমিক ও প্রবাসীরা তাকিয়ে আছেন অধিক সুরক্ষা ও মর্যাদার আশায়। এখন দেখার বিষয়—জনতার আস্থার সেই পুঁজি কতটা কার্যকর নীতিতে রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews