লেখক-Π আতাউর রহমান
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আরিফুল হক চৌধুরী-এর উত্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানোর এক দীর্ঘ পথচলার প্রতিফলন। তাঁর হাতে ন্যস্ত হয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মতো দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর—যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও কোটি প্রবাসীর স্বার্থ।
তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির পথে
রাজনীতিতে তাঁর সূচনা ছাত্রজীবনে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর প্রতিষ্ঠালগ্নের কর্মী হিসেবে। পরবর্তী সময়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন, তারপর মূল দলে সাংগঠনিক ও নেতৃত্বের ভূমিকা—এসব ধাপ পেরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সিলেট অঞ্চলে একটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। দলীয় কাঠামোর ভেতরে তাঁর ক্রমোন্নতি ইঙ্গিত দেয় সংগঠননির্ভর রাজনীতির এক ধারাবাহিকতার দিকে, যা ব্যক্তিকেন্দ্রিক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দলীয় আস্থাকেও দৃঢ় করেছে।
নগর রাজনীতিতে উত্থান ও চ্যালেঞ্জ
স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন ছিল তাঁর জনপ্রতিনিধিত্বের প্রথম বড় মঞ্চ। পরে নগর উন্নয়ন কমিটির নেতৃত্বে থেকে এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান-এর উন্নয়ন দর্শনের সহযোগী হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন।
২০১৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র বদরুদ্দীন কামরান-কে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। এটি ছিল স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদল। তবে তাঁর মেয়াদকাল ছিল বিতর্ক ও প্রতিকূলতায় পূর্ণ। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে কারাবরণ—রাজনৈতিক জীবনে এক বড় ধাক্কা। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক সক্রিয়তায় ফিরে আসা তাঁর রাজনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
জনপ্রিয়তা বনাম প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা
দুই দফায় মেয়র নির্বাচিত হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তাঁর প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছিল—এমন অভিযোগ স্থানীয় মহলে ছিল। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া কিংবা বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতা—এসব প্রশ্ন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও আলোচনায় আনে। ২০২৩ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ না নেওয়াও দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি তাঁর আনুগত্যের ইঙ্গিত দেয়।
সংসদ সদস্য থেকে পূর্ণ মন্ত্রী
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে স্বল্প প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান খাত আজ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও শ্রম অধিকার ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। একইসঙ্গে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এই দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে নীতি-সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং প্রবাসী সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা—এসবই হবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতার পরীক্ষা
রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আসা এক নেতার সামনে এখন নীতিনির্ধারণী দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার সময়। তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিক হিসেবে তিনি মাঠের বাস্তবতা জানেন—এটি তাঁর শক্তি। তবে জাতীয় পর্যায়ে সফল হতে প্রয়োজন প্রশাসনিক সমন্বয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বোঝাপড়া এবং শ্রমবাজারের কাঠামোগত সংস্কার।
সিলেট-৪-এর ভোটাররা তাঁকে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশায়। দেশের শ্রমিক ও প্রবাসীরা তাকিয়ে আছেন অধিক সুরক্ষা ও মর্যাদার আশায়। এখন দেখার বিষয়—জনতার আস্থার সেই পুঁজি কতটা কার্যকর নীতিতে রূপ নিতে পারে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড,
বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯