সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রশাসনের জবাবদিহি ও অভিযোগের শালীনতা অবসরভাতা পেতে আর ভোগান্তি নয়, অনলাইনেই শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে যাবে পাওনা: প্রধানমন্ত্রী সিলেটের ট্রিপল মার্ডারে নতুন মোড়: প্রেমের গল্পের আড়ালে কি জমি বিরোধ? দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: অবসরভাতা ও কল্যাণ সুবিধা পাচ্ছেন ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বিয়ানীবাজারে সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের নতুন নেতৃত্বে তোফায়েল-অলিউর মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর আলোচনা, ভাগ হতে পারে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দৈনিক ঘোষণা’র বর্ষসেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হলেন সাদিক হোসেন এপলু ঠাকুরগাঁওয়ের ‘ঘরের ছেলে’ মির্জা ফখরুল, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নে উচ্ছ্বাস তিনটি লাশ, অসংখ্য প্রশ্ন: মানবিকতার সংকটে বাংলাদেশ অটোপাশের দিন শেষ, মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে হবে: এমপি এমরান চৌধুরী

বিয়ানীবাজারে কিশোরী রিয়া হত্যা: পলাতক বাবা গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক : সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে কিশোরী রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও এজাহারনামীয় আসামি আবু বক্কর (৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর রবিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের সার্বিক নির্দেশনা ও তদারকিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রায়কা আক্তার রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর রায়গড় এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু বক্করের মেয়ে। পারিবারিক বিরোধ, প্রেমের সম্পর্ক, অল্প বয়সে বিয়ে এবং পরবর্তী দাম্পত্য কলহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অস্থিরতা চলছিল।

জানা যায়, পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রায় এক বছর আগে ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন আহমদ নামে এক তরুণকে বিয়ে করেন রিয়া। পরে দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দিলে তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার ইনাম গ্রামে তাঁর নানাবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে রিয়া আবারও স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বাবার কঠোর আপত্তি সত্ত্বেও এ বিষয়ে বিরোধ চলতে থাকায় সামাজিকভাবে বিব্রত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন আবু বক্কর। এই পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে পুলিশ।

ঘটনার দিন, শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজ চলাকালে রিয়া নানাবাড়ির পুকুরঘাটে গোসল করতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় তাঁর বাবা ধারালো দা নিয়ে সেখানে গিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে রিয়ার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘাতক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, “নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত আইনানুগভাবে চলমান রয়েছে।”

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে এখনও এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews