রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির বিয়ানীবাজারে কিশোরী রিয়া হত্যা: পলাতক বাবা গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য: দালাল নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে সরকার বিয়ানীবাজারে পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্রেতার ঘুষিতে মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু জাতীয় সেরা খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু আর নেই চরিত্রবান নেতৃত্ব ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে দক্ষিণ শ্রীধরা তরুণ সংঘের অভিষেক বিয়ানীবাজারে কিশোরী রিয়া হত্যা: প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে নৃশংস হত্যার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ ১৫৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংকটে পঞ্চখণ্ডের প্রাচীন বাসুদেব মন্দিরে মুকুটচূড়া উধাও: তদন্তের দাবি, অনুসন্ধান চলছে

বিয়ানীবাজারে কিশোরী রিয়া হত্যা: পলাতক বাবা গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক : সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে কিশোরী রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও এজাহারনামীয় আসামি আবু বক্কর (৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর রবিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের সার্বিক নির্দেশনা ও তদারকিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রায়কা আক্তার রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর রায়গড় এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু বক্করের মেয়ে। পারিবারিক বিরোধ, প্রেমের সম্পর্ক, অল্প বয়সে বিয়ে এবং পরবর্তী দাম্পত্য কলহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অস্থিরতা চলছিল।

জানা যায়, পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রায় এক বছর আগে ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন আহমদ নামে এক তরুণকে বিয়ে করেন রিয়া। পরে দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দিলে তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার ইনাম গ্রামে তাঁর নানাবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে রিয়া আবারও স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বাবার কঠোর আপত্তি সত্ত্বেও এ বিষয়ে বিরোধ চলতে থাকায় সামাজিকভাবে বিব্রত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন আবু বক্কর। এই পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে পুলিশ।

ঘটনার দিন, শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজ চলাকালে রিয়া নানাবাড়ির পুকুরঘাটে গোসল করতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় তাঁর বাবা ধারালো দা নিয়ে সেখানে গিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে রিয়ার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘাতক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, “নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত আইনানুগভাবে চলমান রয়েছে।”

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে এখনও এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews