আজ থেকে ৬৪ জেলায় একযোগে অর্থ বিতরণ | সিলেটে ৩৩৫ উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দ প্রায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধের বিশেষ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
সরকারের এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার ১১৫ জন এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পাবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এ পর্যায়ে উপকৃত হবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ অর্থ পরিশোধের জন্য সরকার প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
এবারের অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে। EFT IBAS++-এর মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না এবং অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াও হবে অধিকতর স্বচ্ছ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলার অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও এ কর্মসূচির সুফল পৌঁছাবে। জেলার মোট ৩৩৫ জন উপকারভোগীর জন্য প্রায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩২৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবসর নেওয়ার পরও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছিল। বিশেষ করে অবসর-পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা, পারিবারিক ব্যয় ও জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে অনেকেই পাওনা অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সরকারের এবারের উদ্যোগ তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।
তবে সরকারের বর্তমান বিশেষ বরাদ্দ দীর্ঘদিনের জট কিছুটা কমালেও অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের সামগ্রিক সংকট এখনো পুরোপুরি কাটছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, বর্তমানে জমে থাকা সব আবেদন নিষ্পত্তি করতে আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন।
অবসর সুবিধা বোর্ডে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টেও ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
ফলে আজকের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমকে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে অবশিষ্ট আবেদনকারীদের পাওনা দ্রুত পরিশোধে ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার এই উদ্যোগ শুধু একটি আর্থিক সহায়তা নয়—দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ ও মানবিকতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।