নিজস্ব প্রতিবেদক | পঞ্চখণ্ড আই :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে প্রচার করা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ন্যূনতম এইচএসসি বা স্নাতক এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে এমন কোনো আইন কার্যকর হয়নি।
বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী চেয়ারম্যান বা সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। অর্থাৎ আইন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অক্ষরজ্ঞানহীন বা কম শিক্ষিত ব্যক্তিও অন্যান্য আইনি যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে প্রার্থী হতে পারবেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়— চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি বা স্নাতক এবং সদস্য পদে এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নতুন আইন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সম্প্রতি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারায় শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত না থাকাকে কেন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না— সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের রুল মানেই আইন পরিবর্তন নয়। রুলের শুনানি, আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং প্রয়োজন হলে সংসদে আইন সংশোধনের পরই নতুন বিধান কার্যকর হতে পারে। এর আগে বর্তমান আইনই বহাল থাকবে।
স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের সুপারিশ এসেছে। তবে এসব সুপারিশ এখনও আইনে রূপ পায়নি। ফলে পরবর্তী আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বর্তমান আইনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।