
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশে আবাসিক খাতে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ধাপে ধাপে বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বিদ্যমান সব আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রত্যাহার করে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবাসিক খাতে ব্যবহৃত গ্যাস শিল্পে সরবরাহের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে আবাসিক খাতে ব্যবহৃত প্রায় ১২ শতাংশ গ্যাস শিল্পে স্থানান্তর করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে সরকারের ধারণা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আবাসিক গ্যাস-সম্পর্কিত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর ঋণ এলপিজি অবকাঠামো উন্নয়নে পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলপিজির দাম প্রতি সিলিন্ডারে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঋণের অর্থ অন্য খাতে স্থানান্তরের বিষয়টি উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মতির ওপর নির্ভর করবে।
বর্তমানে নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও পুরোনো গ্রাহকেরা পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ সংযোগ বন্ধ থাকায় অবৈধ সংযোগ ও গ্যাস চুরির প্রবণতা বেড়েছে, ফলে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আবাসিক গ্যাস সরবরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পুরোনো পাইপলাইন প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনাও সীমিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহুতল ভবনে এলপিজির ব্যবহার নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বাংলাদেশ ভিন্ন পথে হাঁটছে বলে তাদের অভিমত।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৫ সালে নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হলেও পুরোনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংযোগ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও এখন বিদ্যমান সংযোগও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা সামনে এসেছে।