সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এগিয়ে আসছে, একবারই আবেদনের প্রস্তাব এমপি মহোদয়ের টেলিফোন বার্তায় কর্মসূচি পরিবর্তন: মডেল মসজিদ নিয়ে মতবিনিময় সভা কাল ২৪ আগস্ট বাদ মাগরিব বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদ নিয়ে এমপির সঙ্গে নাগরিক উদ্যোগের বৈঠক পতাকা বদলায়, চরিত্র বদলায় না ওমরাহযাত্রায় বাধা: সিলেট বিমানবন্দরে আসলে কী ঘটেছিল? যে সত্যের কাছে সবাই পরাজিত ২৫৫ ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল শূন্য থেকে দশ : মানুষ, রাষ্ট্র ও বিনয়ের গণিত ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট আজ ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জনকল্যাণ সমিতির স্মারকলিপি 

অবসরের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা: অনলাইন জটিলতাসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুমাত্রিক ভোগান্তি, শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক :
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও অবসরের এককালীন অর্থ পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কম বেতন ও পেনশন সুবিধার অভাবে তাঁদের শেষ জীবনের প্রধান ভরসা এই অবসর ভাতা। অথচ আবেদন করার চার বছর পরও অনেকে টাকা পাচ্ছেন না। ফলে অনেকেই চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

এই ভোগান্তির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে অনলাইন জটিলতা। অবসরভাতা পেতে বর্তমানে অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক হলেও অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব, সার্ভার সমস্যাসহ নানা কারণে আবেদন সম্পন্ন করতে পারছেন না। ফলে অনেকেই শুরুতেই প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে পড়ছেন এবং অতিরিক্ত ঝামেলা ও খরচের মুখে পড়ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যায় আগের সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকলেও নতুন সরকারের কাছে শিক্ষকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তারা আশা করছেন, আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট—এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অবসরকালীন অর্থ প্রদান করা হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে যথাক্রমে ৬% ও ৪% হারে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে বিপুল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অবসর বোর্ডে প্রায় ৬৫ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টে প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন জমে আছে।

তথ্য অনুযায়ী, অবসর বোর্ডে মাসিক আয় প্রায় ৭৩ কোটি টাকা হলেও ব্যয় প্রয়োজন ১১৫ কোটি টাকা, ফলে প্রতি মাসে ৪২ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টে মাসিক আয় ৫২ কোটি টাকা হলেও প্রয়োজন ৬৫ কোটি টাকা, যেখানে ঘাটতি ১৩ কোটি টাকা। এই আর্থিক বৈষম্যের কারণেই আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ বিলম্ব হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনপত্রে তথ্যগত ত্রুটি, অনলাইন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব—এই তিনটি কারণে সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের এককালীন প্রায় ৭,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং প্রতিবছর বাজেটে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা সংযোজন জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে ২০২১ সালের শেষ দিকে আবেদনকারীরা অবসর বোর্ডের টাকা পাচ্ছেন এবং ২০২২ সালের শেষ দিকে আবেদনকারীরা কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, প্রায় চার বছরের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

এদিকে, অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যালয় স্থানান্তরের পরও শিক্ষকদের প্রত্যাশা—প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা প্রদানে গতি আসবে এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করা হবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা এই দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, আবেদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জমে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

শিক্ষক নেতারা বলছেন, দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা অত্যন্ত দুর্বল। পাশাপাশি অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালনায় বেসরকারি শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, অবসরের প্রাপ্য অর্থ পেতে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, আর্থিক ঘাটতি ও অনলাইন জটিলতার সমন্বয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত, সহজ ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews