সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বিয়ানীবাজারে বিনামূল্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ লাখ গাছের চারা বিতরন ওষুধের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা রোগী, চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে বিপাকে বিয়ানীবাজারের মানুষ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ, অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত বিয়ানীবাজারের জনজীবন জাতির বিবেককে সম্মান: রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার অপরিহার্য শর্ত স্বপ্নপূরণের অনন্য দৃষ্টান্ত: শ্রীধরার সন্তান ফরহাদ আহমদ লিমন এখন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ অফিসার জুড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসফেরত যুবকের মৃত্যু এপেক্স ক্লাব অব জুড়ী ভ্যালির ১৭তম পালাবদল অনুষ্ঠিত বক্তৃতা আর হুমকির ঘোরপাকে জাতি কি এগিয়ে যাবে? বাগিরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন শিক্ষানুরাগী বিলাল উদ্দিন আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান শিশু সাময়িক বরখাস্ত

অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা: করতী খালে সেতুহীন দুর্ভোগে বিয়ানীবাজারের প্রান্তিক ২০ হাজার মানুষ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশব্যাপী উন্নয়নযজ্ঞের ফিরিস্তি যতই উচ্চারিত হোক, সিলেটের প্রান্তিক অঞ্চলে তার বাস্তব প্রতিফলন ততটা দৃশ্যমান নয়। এর স্পষ্ট উদাহরণ বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের পাতন-ফুলমলিক ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঘাগুয়া গ্রামের করতী খাল এলাকা। স্বাধীনতার পর থেকে পেরিয়ে গেছে প্রায় ৫৪ বছর, কিন্তু এখনো ওই খালের ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়নি।

এ সেতুহীন খাল দুই পাশে বিস্তৃত কয়েকটি বড় গ্রাম—পাতন, ফুলমলিক ও ঘাঘুয়া। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই জনপদের প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, শিক্ষার্থী চলাচল, কৃষিপণ্য সরবরাহ—সব ক্ষেত্রেই সেতুর অভাব এক বড় বাধা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক যুগ ধরে করতী খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ঘাগুয়া গ্রামের মাস্টার মুজিবুর রহমান বলেন, “দেশের সরকার বদলায়, উন্নয়ন হয়, কিন্তু আমাদের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য বদলায় না। এখনও বাঁশের সাঁকো দিয়েই জীবন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়। আমাদের স্বপ্ন: করতী খালের সেতু কবে হবে?”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামবাসীর উদ্যোগে ২০১৯ সালে চাঁদা তুলে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে খালের ওপর একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। তবে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেটি ভেঙে গেলে পুনরায় ছোট আকারে আরেকটি সাঁকো তৈরি করা হয়। পরের বছর আবারও বন্যায় সেটি ধ্বংস হয়ে যায়। বর্তমানে একটি অস্থায়ী সাঁকোর মাধ্যমে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন এলাকাবাসী।

গ্রামের প্রবীণ আকমল আলী বলেন, “কয়েক মাস আগে এক যুবকের মরদেহ বাড়িতে আনতে গিয়ে সাঁকো ভেঙে পড়ায় লাশ কাঁধে করে আনতে হয়েছিল। এটা আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।”

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে বন্যা-পরবর্তী সময়ে পাতন-ফুলমলিক খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রাথমিক প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। প্রকল্পটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় প্রেরণ করা হয়। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও প্রস্তাবিত সেতুটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী দীপক কুমার দাস বলেন, “খালের ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব তিন বছর আগে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসন সম্ভব হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম মোস্তাফা মুন্না বলেন, “সেতু নির্মাণের দাবি পুরনো ও যৌক্তিক। আমরা বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”

বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুদ দাইয়ান বলেন, “একটি সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া–আসা অত্যন্ত কষ্টকর। বর্ষায় ক্লাসে উপস্থিতি কমে যায়। সেতুটি শুধু যোগাযোগ নয়, শিক্ষার অগ্রগতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।”

স্থানীয়দের আশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের বিশ্বাস, করতী খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু শুধু মানুষের যাতায়াত সহজ করবে না, বরং এ অঞ্চলের প্রান্তিক অর্থনীতিকেও নতুন গতিতে এগিয়ে নেবে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews