রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রশাসনের জবাবদিহি ও অভিযোগের শালীনতা অবসরভাতা পেতে আর ভোগান্তি নয়, অনলাইনেই শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে যাবে পাওনা: প্রধানমন্ত্রী সিলেটের ট্রিপল মার্ডারে নতুন মোড়: প্রেমের গল্পের আড়ালে কি জমি বিরোধ? দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: অবসরভাতা ও কল্যাণ সুবিধা পাচ্ছেন ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বিয়ানীবাজারে সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের নতুন নেতৃত্বে তোফায়েল-অলিউর মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর আলোচনা, ভাগ হতে পারে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দৈনিক ঘোষণা’র বর্ষসেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হলেন সাদিক হোসেন এপলু ঠাকুরগাঁওয়ের ‘ঘরের ছেলে’ মির্জা ফখরুল, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নে উচ্ছ্বাস তিনটি লাশ, অসংখ্য প্রশ্ন: মানবিকতার সংকটে বাংলাদেশ অটোপাশের দিন শেষ, মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে হবে: এমপি এমরান চৌধুরী

বন্ধুত্বর স্মৃতিতে ছাদ উদ্দিন

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫
  • ৪৩৫ বার পড়া হয়েছে

আতাউর রহমান :
১৯৭৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বর বন্ধনে আবদ্ধ আছি আমার বিদ্যালয়ের সহপাঠী ও অন্তরঙ্গ বন্ধু ছাদ উদ্দিন। জীবনের পথচলায় অনেক কিছুই এসেছে ও গেছে, কিন্তু বন্ধুত্বর এই বন্ধন অম্লান ও অটুট থেকেছে অদ্যাবধি।

আজ সকালে ফেসবুক খোলেই বন্ধু আব্দুদ দাইয়ান এর স্টেটাস দেখলাম, আমাদের বাল্যবন্ধু ছাদ উদ্দিন প্রবাসে যাচ্ছে। বলা নেই, কওয়া নেই। তার ররকম যাওয়া আসা দেখে বলা মুশকিল- বন্ধুটি কি আসলে স্বদেশি না-কি প্রবাসী। এ যেন তার ভ্রমণের অন্যতম শখ।

ছাদ উদ্দিন অল্প বয়স থেকেই ঘরকুনো হননি। ঘর ও গ্রামকে ভালোবাসেন বলেই ঘর ছেড়ে দূর দেশে পাড়ি দিয়েও ঘন ঘন আবার জন্মস্থানে ফিরে এসেছেন। ঘর ও মাটির টানে তিনি বারবার ঘর মুখো হন, কারণ আত্মা যে শেকড়ে গেঁথে থাকে।

১৯৮৪ সালে সিলেট এম.সি. কলেজ হতে বি.এস-সি পাস করার পর তিনি ব্যবসায় জীবন শুরু করেছিলেন। শুরু করেছিলেন ট্রেভেলিং ব্যবসা, যে ব্যবসায় তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে অল্প দিনেই বিশেষ খ্যাতিতে পৌঁছান। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হন অল্প কয়েকজন স্বনামধন্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবসায়ীর একজন।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ঘর বাঁধলেও তিনি জন্মস্থল ও আত্মীয়-বন্ধুজনকে ভুলেননি। পরিবারের সাথে স্থায়ীভাবে প্রবাসে থাকার পরও ঘন ঘন দেশে আসেন, আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবকে কাছে পেতে।

ছাদ উদ্দিন অপরের বিপদে ও কল্যানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন সব সময়। বন্ধু ও আত্মীয়রা চাইলে যে কারো সমস্যা সমাধানে তিনি এগিয়ে আসতেন। আড্ডাপ্রিয় ও বন্ধুবৎসল এই মানুষটি ঘরোয়া পরিক্রমাকে মাতিয়ে রাখতেন তাঁর অনন্য স্মৃতিচারণ ও সরল আচরণের মাধ্যমে।

বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতিতে তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা ও অবদান অমৃতসমান। সমিতিকে সুদৃঢ় ও স্থায়ী করার পেছনেও ছিল তাঁর অপরিহার্য ভূমিকা।

ছাদ উদ্দিন দুই পুত্র ও এক কন্যার গর্বিত পিতা। তাঁর সন্তানরা সবাই সিলেট আনন্দ নিকেতন থেকে কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা সম্পন্ন করে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় পাড়ি দিয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় পুত্র স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, অপর পুত্র ও একমাত্র কন্যা পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে আছেন।

আজ (১৬ জুন) আবার তিনি পরিবারের টানে ও জীবিকার প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে পাড়ি জমালেন। আল্লাহ তাঁকে নিরাপদ ও সুন্দর যাত্রাদান করুন। পরিবারের সবাইকে সমৃদ্ধিতে ঘর পূর্ণ হোক, বন্ধুত্বর বন্ধন অটুট ও অমৃতসমান হোক— এই দোয়াই করি।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews