রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
এক মাসেও বিয়ানীবাজাররের রুপক মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির বিয়ানীবাজারে কিশোরী রিয়া হত্যা: পলাতক বাবা গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য: দালাল নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে সরকার বিয়ানীবাজারে পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্রেতার ঘুষিতে মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু জাতীয় সেরা খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু আর নেই চরিত্রবান নেতৃত্ব ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে দক্ষিণ শ্রীধরা তরুণ সংঘের অভিষেক বিয়ানীবাজারে কিশোরী রিয়া হত্যা: প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে নৃশংস হত্যার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ ১৫৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংকটে

এক মাসেও বিয়ানীবাজাররের রুপক মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ময়নাতদন্তের অপেক্ষায়, প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, পঞ্চখণ্ড আই :
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের খাসাড়িপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে দুই হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় সাদিকুল ইসলাম রুপকের (২৭) মরদেহ উদ্ধারের এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানা। তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এ রহস্যজনক মৃত্যু।

গত ৩১ মে পরিবারের সদস্যরা রুপকের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। তবে উদ্ধারের সময় তাঁর দুই হাত পেছনে বাঁধা থাকায় ঘটনাটি শুরু থেকেই সন্দেহের জন্ম দেয়। পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে থানায় মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা হিসাবের ডায়েরি বা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছে টাকা পাওয়ার হিসাব উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই তথ্যকে তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে বিয়ানীবাজার থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল করিম সম্প্রতি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তদন্তের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।

তবে তদন্ত ঘিরে এখনো অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত। ঘটনাস্থল কতক্ষণ সিলগালা রাখা হয়েছিল, ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল কি না, কী কী আলামত জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর ভিডিও বা ফটোগ্রাফিক ডকুমেন্টেশন করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

এ ছাড়া ঘটনাস্থলের বাথরুম থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিএনএ কিংবা অন্যান্য ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, সেখানে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতির সম্ভাবনা কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে, বাথরুম পরিষ্কার করার কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ধার হওয়া পলিথিন ব্যাগে থাকা পোশাকগুলো আদৌ রুপকের পরনের ছিল কি না, সেগুলোতে রক্ত, শরীরের তরল বা অন্য কোনো রাসায়নিক উপাদানের পরীক্ষা চলছে কি না এবং পোশাক পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না—এসব প্রশ্নও এখনো উত্তরহীন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো তদন্তকারীদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে গলায় ফাঁসের দাগ আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, নাকি অন্য কোনো উপায়ে মৃত্যুর ইঙ্গিত রয়েছে, শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া হিসাবের ডায়েরিটি বর্তমানে কার হেফাজতে রয়েছে, সেখানে উল্লেখিত ব্যক্তি ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের আওতায় এসেছে কি না, সম্ভাব্য মোটিভ হিসেবে দেনা-পাওনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়েও তদন্তের অগ্রগতি স্পষ্ট নয়।

পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের বক্তব্য কতটুকু গ্রহণ করা হয়েছে, ঘটনার আগে ও পরে রুপকের মোবাইল ফোনের কললিস্ট, ডিজিটাল কার্যক্রম, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের মোবাইল টাওয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নেরও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া প্রয়োজন হলে তদন্তে পিবিআই বা অন্য কোনো বিশেষায়িত সংস্থার সহায়তা নেওয়া হবে কি না, তদন্তে প্রভাব বিস্তারের কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না এবং জনসাধারণের কাছ থেকে তথ্য আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—এসব বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মহলের আগ্রহ বাড়ছে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল করিম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”

এক মাস পেরিয়ে গেলেও রুপকের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনই এখন এই বহুল আলোচিত মৃত্যুর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের প্রধান ভরসা।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews