
কল্যাণ ও অবসর সুবিধা বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যে অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা এখন আর উপেক্ষণীয় নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—সমস্যা কেবল বাজেট ঘাটতির নয়; বরং এর গভীরে রয়েছে ব্যবস্থাপনা সংকট, অগ্রাধিকার নির্ধারণে অসঙ্গতি এবং স্বচ্ছতার অভাব।
প্রশ্ন উঠছে—কেন ২০২০-২১ সালে আবেদনকারীরা এখনও প্রাপ্য অর্থের অপেক্ষায়, অথচ ২০২৪-২৫ সালের আবেদনকারীদের মধ্যে কেউ কেউ দ্রুত সুবিধা পাচ্ছেন? “বিশেষ ক্যাটাগরি”—মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থতা, হজ বা কন্যা দায়গ্রস্ততা—দেখিয়ে এ বৈষম্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও বাস্তবতা সব ক্ষেত্রে তা সমর্থন করে না। একই ক্যাটাগরিতে কারও অর্থপ্রাপ্তি এক মাসে, আবার কারও দীর্ঘ বিলম্ব—এটি নীতিমালার সমান প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ ক্যাটাগরির সুযোগ কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহৃত হচ্ছে। প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া অবশ্যই প্রয়োজনীয়; তবে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলে তা অন্যদের ন্যায্য অধিকারকে খর্ব করে এবং পুরো ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজেট ঘাটতির কথা বললেও শিক্ষক সমাজের দাবি ভিন্ন—যে পরিমাণ অর্থই থাকুক, তা যেন নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে বিতরণ করা হয়। দেরি হলেও ন্যায্যতা নিশ্চিত হলে অধিকাংশ ভুক্তভোগী তা মেনে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একসময় যেখানে দুই-এক বছরের মধ্যে অবসর সুবিধা পাওয়া যেত, বর্তমানে তা বেড়ে চার-পাঁচ বছরে দাঁড়িয়েছে। অথচ বেতন স্কেল বৃদ্ধির সঙ্গে কর্তনও বেড়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ হচ্ছে এবং সরকারি প্রণোদনার অর্থ থেকেও সুদ আসছে। তবুও তহবিল বৃদ্ধির দৃশ্যমান প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে না—এটি নিঃসন্দেহে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তথ্যের অস্বচ্ছতা। কোন মাস পর্যন্ত আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে কিংবা বর্তমান অগ্রগতি কী—এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। ফলে গুজব ও বিভ্রান্তি বাড়ছে। অন্তত তিন মাস অন্তর বোর্ডের কার্যক্রম প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্টরা আশ্বস্ত হতে পারতেন।
বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই মনে করেন, অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো একটি কেন্দ্রীয়, জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় অবসর সুবিধা প্রদানই হতে পারে স্থায়ী সমাধান।
পরিশেষে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন—অপেক্ষমাণ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কারণ এই মানুষগুলোই জাতি গঠনের নীরব কারিগর; তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
[বন্ধুবর Abdud Daiyan (অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক), সভাপতি, বাশিস—বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখা। তিনির ফেসবুক টাইমলাইন থেকে প্রাপ্ত মতামতের আলোকে রচিত]