
সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুকের স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে একটি প্রশাসনিক অর্জন। এমন স্বীকৃতি সাধারণত কর্মদক্ষতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রদান করা হয়। কিন্তু একই সময়ে বিয়ানীবাজারের জনমনে একটি মৌলিক প্রশ্ন ক্রমেই উচ্চারিত হচ্ছে—এই শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিফলন কি সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে অনুভব করছে?
গত কিছু মাসে বিয়ানীবাজারে চুরি, ছিনতাই, রহস্যজনক মৃত্যু এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার অভিযোগ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক তিনটি আলোচিত মৃত্যুর ঘটনায় এখনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, তদন্তের অগ্রগতি কিংবা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে দৃশ্যমান তথ্যের অভাব জনআস্থার সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বাস্তবতা হলো, কোনো থানার ওসি এককভাবে সব অপরাধের জন্য দায়ী নন। তবে থানার সামগ্রিক কার্যক্রম, অপরাধ দমন, তদন্তের গতি এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের মান নিয়ে মানুষের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত থানার নেতৃত্বের ওপরই বর্তায়।
দুঃখজনকভাবে বর্তমানে বিয়ানীবাজারের অনেক নাগরিকের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চেয়ে প্রচার ও সাফল্যের উপস্থাপন বেশি দৃশ্যমান। এই ধারণা সঠিক বা ভুল—সেটি প্রমাণের দায়িত্বও প্রশাসনের। কারণ জনআস্থা কখনো প্রচারণা দিয়ে অর্জিত হয় না; এটি অর্জিত হয় দৃশ্যমান কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে।
আমরা মনে করি, শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি তখনই অর্থবহ হবে যখন সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপদ মনে করবে, অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত আইনি অগ্রগতি দেখতে পাবে এবং আলোচিত ঘটনাগুলোর তদন্তে দৃশ্যমান ফলাফল পাবে। অন্যথায় পুরস্কার ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই থাকবে।
বিয়ানীবাজার একটি শিক্ষিত, সচেতন ও প্রবাসী অধ্যুষিত জনপদ। এখানকার মানুষ সংঘাত চায় না, অযথা সমালোচনাও চায় না। তারা চায় কার্যকর পুলিশিং, নিরাপদ জনজীবন এবং অপরাধের দ্রুত বিচারিক অগ্রগতি। তারা জানতে চায়, আলোচিত ঘটনাগুলোর তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পরবর্তী পরিকল্পনা কী।
পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন পোর্টাল বিশ্বাস করে, পুলিশ ও জনগণ পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়; বরং নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের অংশীদার। তাই বিয়ানীবাজার থানার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা—প্রশাসনিক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিকে বাস্তব জনসেবার মাধ্যমে আরও দৃশ্যমান করুন, তদন্তে গতি আনুন, অপরাধ দমনে কঠোর হোন এবং সর্বোপরি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন।
কারণ কোনো কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় অর্জন পুরস্কার নয়; জনগণের বিশ্বাস।