1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বিয়ানীবাজারে ইটালী পাঠানোর নামে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপনে দুই ভাই: পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ কনকলস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাবনাময় প্রার্থী অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহম্মেদ খান শিক্ষাঙ্গনে ন্যক্কারজনক হামলা: শিক্ষক লাঞ্ছিত, নীরব প্রশাসন—ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ: শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও অনলাইন ডাটাবেজ গঠনের পরিকল্পনা বিয়ানীবাজারে এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিনেই চাঞ্চল্য: ৩ ছাত্রী উধাও শ্বালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন ২ জুলাই থেকে শুরু এইচএসসি ২০২৬: পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা, শিগগিরই রুটিন প্রকাশ বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান আবুল কাহের চৌধুরী শামীমকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানালেন ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদার

টাকা ভিক্ষা করেও পাওয়া যায়, তবে সম্মান নয়

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আলোকে একটি সম্পাদকীয়

বিয়ানীবাজারের দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট মোঃ আতাউর রহমানকে ঘিরে গতকাল শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানটি আমাদের সমাজে এক গুরুত্বপূর্ণ সত্য পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে— টাকা ভিক্ষা করেও পাওয়া যায়, তবে সম্মান নয়। অর্থে সব পাওয়া গেলেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা পাওয়ার পথটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই সম্মান অর্জিত হয় সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দীর্ঘসময়ের সেবামূলক কর্মের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা যে বক্তব্য রেখেছেন, তার মধ্যেই উঠে এসেছে একজন শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয়। প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ প্রফেসর সাব্বীর আহমদ জানান, “আতাউর রহমান একজন আদর্শ শিক্ষক, যাঁর চার দশকের কর্মজীবন শিক্ষা–সংস্কৃতি ও নৈতিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত।” প্রধান আলোচক মো. কবির খান বলেন, “তিনি শুধু পাঠদান করেননি, শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে আলো দেখিয়েছেন।”—এই বক্তব্যগুলোই স্পষ্ট করে যে একজন শিক্ষক সম্মান পান তাঁর জ্ঞানের চেয়ে বেশি তাঁর আচরণ, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের জন্য।

আজকের সময়ে অর্থ–ক্ষমতাধারী ব্যক্তিরা প্রভাব বিস্তারের জন্য নানা আয়োজন, প্রচার ও প্রদর্শনীতে ব্যস্ত থাকেন। তাদের মধ্যে অনেকে মনে করেন, অর্থ দিলেই, অনুষ্ঠান করলেই, দান করলেই মানুষের ভালোবাসা অর্জন সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থ দিয়ে জনপ্রিয়তা তৈরি করা যায়, কিন্তু মানুষের অন্তর জয় করা যায় না। সম্মান একটি স্বাভাবিক সামাজিক স্বীকৃতি—যা মানুষের কর্ম, নীতি ও চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আতাউর রহমানের ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি এসেছে নীরব, ধারাবাহিক ও সার্বজনীন সেবার মাধ্যমে। তিনি কোনো প্রদর্শনী করেননি, কোনো প্রচারের প্রয়োজন পড়েনি; বরং দশকের পর দশক শিক্ষার্থীর হৃদয়ে আলো জ্বালিয়েছেন। গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থায় তাঁর অবদান, মানবিকতা, সততা ও নৈতিকতার চর্চা আজ তাঁকে ‘আলোর মানুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সম্মান অর্থ দিয়ে কেনা নয়; এটি সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার প্রতিফলন।

সম্মান একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ—যার লাভ তৎক্ষণাৎ আসে না, কিন্তু আসে গভীরতম আকারে। শিক্ষকতা পেশা সেই বিনিয়োগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। সমাজ যখন কোনো শিক্ষককে অবসর মুহূর্তে এভাবে সম্মানিত করে, তখন তা শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো শিক্ষাজগৎকে সম্মান জানানো হয়। এই সম্মান নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবোধের পাঠ হয়ে দাঁড়ায়—যে সম্মান কাগুজে ক্রয়ে নয়, অনবরত সেবায় অর্জিত হয়।

বিয়ানীবাজারের এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি স্মারকগ্রন্থ উন্মোচনের আয়োজন নয়; এটি সমাজের নৈতিক চেতনারও এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। অনুষ্ঠানের প্রতিটি বক্তৃতা, সম্মাননা ও ভালোবাসার প্রকাশ আবারও মনে করিয়ে দিল—সম্মানের কোনো বাজারভ্যালু নেই; এর একমাত্র মূল্যমান হলো মানুষের মানবিকতা।

যে সমাজে আজও এমন আলোর মানুষের সম্মান হয়, সেই সমাজের মূল্যবোধ এখনো নষ্ট হয়নি—এটি আশার বার্তা। আর এই বার্তার মূলকথা একটাই—
টাকা যার কাছে নেই, সে ভিক্ষা করে নিতে পারে; কিন্তু সম্মান, চরিত্র ও মানবিকতার আলো ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না। তা অর্জন করতে হয় জীবন ভর সত্য ও দায়িত্বের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট