
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছরওয়ার হোসেনকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সিলেট জেলা বিএনপি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ৭ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মোঃ ছরওয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে গুরুতর বিবেচিত হওয়ায় জেলা বিএনপির সিদ্ধান্তক্রমে তাকে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। তার জবাব সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর নিকট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল না করা হলে অথবা প্রদত্ত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক বিবেচিত না হলে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, বিষয়টি বিয়ানীবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। উপজেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব পালনরত একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন সাংগঠনিক পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে, এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মোঃ ছরওয়ার হোসেনের পক্ষ থেকে আনীত অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) আলহাজ্ব জি. কে. গউছ এমপি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন এমপি এবং মিফতাহ সিদ্দিকীর নিকট।