
ঢাকার মিরপুরের পল্লবী এলাকার চাঞ্চল্যকর ও দেশব্যাপী আলোচিত শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্বপ্না খাতুনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত তাদের যথাক্রমে ৫ লাখ ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
রোববার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এক জনাকীর্ণ আদালতে এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আদায়কৃত জরিমানার অর্থ ভিকটিমের আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে আসামিদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে পল্লবীতে সংঘটিত নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পর সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে পল্লবী থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত সংস্থা দ্রুততার সঙ্গে ফরেনসিক আলামত, ডিএনএ রিপোর্ট এবং ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১ জুন অভিযোগ গঠনের পর মাত্র দুই কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
তদন্ত থেকে রায় পর্যন্ত সমগ্র বিচারিক প্রক্রিয়া মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় এটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই রায় শুধু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করেনি, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শিশু সুরক্ষা এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জনমনে প্রত্যাশা, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়ার আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।