সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এগিয়ে আসছে, একবারই আবেদনের প্রস্তাব এমপি মহোদয়ের টেলিফোন বার্তায় কর্মসূচি পরিবর্তন: মডেল মসজিদ নিয়ে মতবিনিময় সভা কাল ২৪ আগস্ট বাদ মাগরিব বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদ নিয়ে এমপির সঙ্গে নাগরিক উদ্যোগের বৈঠক পতাকা বদলায়, চরিত্র বদলায় না ওমরাহযাত্রায় বাধা: সিলেট বিমানবন্দরে আসলে কী ঘটেছিল? যে সত্যের কাছে সবাই পরাজিত ২৫৫ ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল শূন্য থেকে দশ : মানুষ, রাষ্ট্র ও বিনয়ের গণিত ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট আজ ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জনকল্যাণ সমিতির স্মারকলিপি 

সিলেট-৬: “লাতু–বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ রেলপথ হবে অগ্রাধিকার”—লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুন নূর

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১৩ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক / প্রেসক্লাব প্রতিবেদক:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুন নূরের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথা বলেন প্রেসক্লাব প্রতিনিধিরা। রাজনীতি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ভাবনা ও এলাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ নিচে তুলে ধরা হলো—

প্রশ্ন: ব্যালটে নৌকা প্রতীক না থাকায় আওয়ামী ঘরানার নীরব ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ—এই ভোটারদের দিকে আপনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে কীভাবে এগোচ্ছেন?
আব্দুন নূর:
আমি বিশ্বাস করি, ভোটাররা প্রতীক নয়—মানুষ ও কাজকে মূল্যায়ন করেন। আমি বিয়ানীবাজারের সন্তান, এই মাটিতেই বড় হয়েছি। অতীতে এলাকার স্কুল–কলেজ, মাদ্রাসা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম। টিলাকাটা রোধ, ফায়ার সার্ভিস, টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং গ্যাসের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। যেটা করেছি, সততার সঙ্গেই করেছি—কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। তাই আমি মনে করি, আওয়ামী ঘরানার নীরব ভোটারসহ সব সচেতন ভোটার উন্নয়ন, সততা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিকেই বেছে নেবেন। আমি তাদের কাছে দল নয়, এলাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই যাচ্ছি।

প্রশ্ন: বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ—দুই জায়গার ভোটারদের জন্য আপনার প্রতিশ্রুতিতে কী কী ফোকাস আছে?
আব্দুন নূর:
আমার মূল ফোকাস থাকবে যোগাযোগ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পর্যটন উন্নয়নে। নির্বাচিত হলে লাতু–বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ–সিলেট রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে যায়। সুনাই–কুশিয়ারা–সুরমা নদীর অববাহিকাকে ঘিরে পর্যটন শিল্প এলাকা গড়ে তোলা এবং নৌপথ সংস্কার করে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করাও আমার পরিকল্পনায় আছে।

শিক্ষার ক্ষেত্রে সিলেট-৬ আসনে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এখন সময়ের দাবি। জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে বিয়ানীবাজার কলেজ ও ঢাকা দক্ষিণ কলেজ সরকারিকরণ হয়েছিল—এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শিক্ষা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করব। পাশাপাশি আইটি সেক্টরকে হাতের নাগালে এনে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে বেকারত্ব কমে আসে।

প্রশ্ন: আপনার শক্ত ঘাঁটি কোন এলাকাগুলো? শেষ মুহূর্তে ভোটারদের উদ্দেশে আপনার সবচেয়ে জোরালো বার্তা কী?
আব্দুন নূর:
আমি মনে করি, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ—দুই এলাকার সাধারণ মানুষই আমার শক্তি। দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজার গণদাবি পরিষদ ও তরুণ সংঘের ব্যানারে স্থানীয় দাবি-দাওয়া নিয়ে আমি সোচ্চার ছিলাম, মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থেকেছি। তাই নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়—এই পুরো আসনের মানুষই আমার ভরসা।

শেষ কথা একটাই—আমি উন্নয়ন আর সততার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আপনারা যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে সবাইকে নিয়ে, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত ও সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।

প্রশ্ন: আপনার রাজনৈতিক অবস্থানটা ঠিক কীভাবে দেখছেন?
আব্দুন নূর:
আমি নিজেকে উন্নয়ন ও জনস্বার্থের রাজনীতির একজন কর্মী হিসেবেই দেখি। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে এলাকার মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে সব সময় সোচ্চার ছিলাম। আমার রাজনীতি মানে হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা, শিক্ষা–যোগাযোগ–কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং সিলেট-৬ আসনকে একটি পরিকল্পিত জনপদে রূপান্তর করা।

প্রশ্ন: বর্তমান ভোটের রাজনীতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
আব্দুন নূর:
বর্তমান ভোটের রাজনীতিতে মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী। ভোটাররা স্লোগানের চেয়ে কাজের হিসাব দেখতে চান। এই আসনে আঞ্চলিকতা, নীরব ভোটব্যাংক, প্রতীক ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা—সব মিলিয়ে একটি জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত মানুষ সততা, অতীত কাজের রেকর্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেই গুরুত্ব দেবেন।

প্রশ্ন: নির্বাচিত হলে সিলেট-৬ এর জন্য আপনার প্রধান অগ্রাধিকার কী হবে?
আব্দুন নূর:
আমার প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। লাতু–বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ–সিলেট রেলপথ নির্মাণ, সুনাই–কুশিয়ারা–সুরমা নদী অববাহিকাকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা এবং নৌপথ সংস্কার—এসবই থাকবে প্রথম সারির কাজের মধ্যে। পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং আইটি সেক্টর সম্প্রসারণের মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।

প্রশ্ন: ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার শেষ কথা কী?
আব্দুন নূর: আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই—আমি আপনাদেরই একজন, এই মাটির সন্তান। আপনারা যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করব। লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনারা উন্নয়ন, সততা ও দায়িত্বশীল রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নেবেন—এই আশাই রাখি।

প্রশ্ন: এই আসনে আপনার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য কী?
আব্দুন নূর: আমার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে সিলেট-৬ আসনকে একটি শিক্ষিত, আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর অঞ্চলে রূপান্তর করা। শক্তিশালী শিক্ষা অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন ও আইটি-ভিত্তিক কর্মসংস্থান—এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলতে চাই, যাতে আগামী প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে—এই এলাকার পরিবর্তনের পেছনে আমরা সবাই অংশীদার ছিলাম।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews