1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শিক্ষানুরাগী আলহাজ সোহেল আহমদ চৌধুরীর মমতাময়ী মায়ের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ রোটারি বর্ষে রেকর্ড ১৪২ প্রকল্প বাস্তবায়ন; প্রচ্ছদের মসজিদ নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সংশোধন জানাজার শেড: বিলাসিতা নয়, সময়ের দাবি প্রতিবাদী লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শমসের আলম মমতাময়ী মাতার ইন্তেকাল দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন সাময়িক বহিষ্কার বাজেট ২০২৬-২৭: কোন কোন পণ্যের দাম কমতে পারে, স্বস্তি মিলবে যেসব খাতে বক্তব্যের বাইরে বাস্তবতার প্রশ্ন: বিয়ানীবাজারের আইনশৃঙ্খলা সভার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বিয়ানীবাজারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা: ‘অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ নয়, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে চাই সবার অংশগ্রহণ’ — পুলিশ সুপার দ্রুতগতির অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল: ২০২৮ সালে আসছে নতুন কারিকুলাম

সিলেটের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় ফুলতলী ঐতিহ্যের প্রাসঙ্গিকতা Π আতাউর রহমান

আতাউর রহমান | শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজচিন্তক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব, সামাজিক প্রভাব ও বর্তমান বাস্তবতা

সিলেট বাংলাদেশের এমন একটি অঞ্চল, যেখানে ধর্মীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং আলেম সমাজের প্রভাব শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে আসছে। এই অঞ্চলের মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অনেক সময় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বকে অধিক গুরুত্ব দেয়। আর সেই ইতিহাসে হুসাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী এবং ফুলতলী পরিবারের নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়।

হুসাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ফুলতলী পরিবারের অন্যতম প্রতিনিধি ও প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রয়াত বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী-এর উত্তরসূরি হিসেবে আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন।

তিনি শুধু ধর্মীয় নেতা নন, বরং রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে “কেটলি” প্রতীকে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, সিলেট অঞ্চলে তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তি অত্যন্ত দৃঢ়। বিশেষ করে জকিগঞ্জ-কানাইঘাট অঞ্চলে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনো আলোচিত বিষয়।

বর্তমান সময়ে যখন সিলেটে আলেমে আলেমে বিভাজন, সামাজিক মাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ি এবং দলীয় অবস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন বৃহত্তর সিলেটের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় ফুলতলী পরিবারের ঐতিহ্য ও ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসা প্রয়োজন। কারণ বাস্তবতা হলো—সিলেটের ধর্মীয় ও সামাজিক বলয়ের অন্যতম বড় শক্তি এখনো ফুলতলী ধারা।

ফুলতলী পরিবারের ভিত্তি কেবল রাজনৈতিক নয়; বরং আধ্যাত্মিকতা, শিক্ষা ও সমাজসংগঠনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে তালামীযে ইসলামিয়া বাংলাদেশ এবং আল ইসলাহ-এর মাধ্যমে যে সাংগঠনিক শক্তি তৈরি হয়েছে, তা সিলেটের গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বহু মাদরাসা, মসজিদ, সামাজিক উদ্যোগ ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ফলে এই বলয় কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, সামাজিক বাস্তবতাতেও গভীরভাবে প্রোথিত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফুলতলী পরিবারের জনপ্রিয়তার মূল কারণ হচ্ছে—তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পেরেছে। সিলেটের বহু অঞ্চলে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলের চেয়ে আধ্যাত্মিক ও পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রভাব বেশি কার্যকর। এ কারণেই জাতীয় রাজনৈতিক পালাবদলের সময়ও ফুলতলী পরিবারের প্রভাব পুরোপুরি কমে যায়নি।

বিশেষ করে শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ডারউইনের তত্ত্ব অন্তর্ভুক্তির সময় হুসাম উদ্দিন ফুলতলীর প্রকাশ্য অবস্থান অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছিল। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে জয়লাভ তাঁর সাংগঠনিক সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়। অনেকে মনে করেন, এটি ছিল সিলেটের ধর্মভিত্তিক সামাজিক শক্তির এক বড় রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ।

তবে সমালোচনাও রয়েছে। ক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান, কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বিশেষ কিছু ইস্যুতে নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর নীরব অবস্থান অনেকের মনে হতাশা তৈরি করেছিল। কিন্তু একই সময়ে তালামীযের বহু কর্মী ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত ও নিহত হয়েছেন—এটিও বাস্তবতা। অর্থাৎ সংগঠন ও নেতৃত্বের অবস্থানের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব তখন দৃশ্যমান হয়েছিল।

এখানেই মূল প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ—সিলেট কি বিভক্তির রাজনীতি চায়, নাকি ঐক্যের সংস্কৃতি?

সিলেটের ইতিহাস বলে, এ অঞ্চলের শক্তি সবসময় ঐক্যে। শাহজালাল (রহ.)-এর আগমন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন পর্যন্ত, সিলেটের মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েই নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলেছে। অথচ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, আলেমদের পারস্পরিক বিদ্বেষ ও অনুসারীদের অন্ধ উগ্রতা পুরো পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। এতে ব্যক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো সিলেটের ভাবমূর্তি।

এই বাস্তবতায় ফুলতলী পরিবারের মতো প্রভাবশালী ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ বড় নেতৃত্বের কাজ শুধু অনুসারী বৃদ্ধি নয়; বরং বিভক্ত সমাজকে সংলাপ ও সহনশীলতার পথে আনা। একইভাবে অন্যান্য আলেম ও সংগঠনগুলোকেও বুঝতে হবে—পারস্পরিক সম্মান ছাড়া ইসলামী সমাজে নেতৃত্ব টেকসই হয় না।

সিলেটের মানুষ এখন সংঘাত নয়, স্থিতি চায়। বিভেদ নয়, ভ্রাতৃত্ব চায়। আর সেই ভ্রাতৃত্বের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হলে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন সংলাপ শুরু করতে হবে। ফুলতলী ঐতিহ্য যদি সত্যিই সিলেটের বৃহত্তর স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়, তবে তাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—অনুসারীদের আবেগকে সংঘাত নয়, ঐক্যের শক্তিতে রূপান্তর করা।

কারণ শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি নয়, টিকে থাকে ঐতিহ্য। আর ঐতিহ্য তখনই সম্মানিত হয়, যখন তা সমাজকে ভাঙে না—একত্রিত করে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট