মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মডেল মসজিদ নিয়ে বিতর্ক নয়, চাই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ও দ্রুত বাস্তবায়ন ৪৭ কোটি টাকায় বিয়ানীবাজার-সারপার-গঁজুকাটা সড়কের উন্নয়ন শুরু বিয়ানীবাজারে মডেল মসজিদ সদরেই নির্মাণের দাবিতে ইউএনওকে স্মারকলিপি বিয়ানীবাজারে মডেল মসজিদ সদরেই নির্মাণের দাবিতে নাগরিক কমিটি গঠন এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা আর অনিশ্চয়তায় নয়—১৫ আগস্ট থেকে নতুন উদ্যোগ বিয়ানীবাজারের মডেল মসজিদ: জমি নেই, নাকি সদরের জন্য সদিচ্ছা নেই? ১০ আগস্ট এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা ঘুষখোরের শাসন ও লুটেরার রাজত্ব: নাগরিক কি শুধু দর্শক? ইউপি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি: গুজবের আড়ালে কী বলছে আইন ‘৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন, বিজয়ের দিন’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিয়ানীবাজারে এনসিডি কর্নারে ওষুধ সংকট

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪০৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার নিবন্ধিত রোগী সেবা নেওয়ায় প্রতি মাসেই চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না, ফলে প্রান্তিক রোগীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

● সেবা দেরিতে শুরু, চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের অন্যতম উদ্যোগ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) কর্মসূচি। দেশের অন্যান্য উপজেলায় ২০১৮ সালে চালু হলেও বিয়ানীবাজারে এ কর্নার চালু হয় ২০২১ সালের অক্টোবরে। শুরু থেকেই উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্ত, চিকিৎসা, ফলোআপ ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কর্নার স্থাপনে এনএইচএফবি, জাইকা, আইসিডিডিআরবি, ব্র্যাক হেলথসহ আটটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।

● সবুজ বই বন্ধ, বাইরের রোগীরাও সেবায়

নিবন্ধিত রোগীদের জন্য দেওয়া ‘সবুজ বই’ বর্তমানে ছাপা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বড়লেখা ও জকিগঞ্জ থেকেও অনেক রোগী অস্থায়ীভাবে বিয়ানীবাজারে বসবাস দেখিয়ে নিবন্ধন করছেন, যা সেবা-চাপ বাড়াচ্ছে।

● যে ওষুধে সংকট বেশি

ডায়াবেটিসের জন্য মেটফরমিন ও গ্লিক্লাজাইড, উচ্চ রক্তচাপের জন্য অ্যামলোডিপিন, লোজারটেন পটাশিয়াম, হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড এবং হৃদরোগীদের জন্য অ্যাসপিরিন ও রোজুভাসটেটিন সরবরাহ করা হয়। তবে গত কয়েক মাস ধরে এসব ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।

● প্রান্তিকদের বঞ্চনা, স্বচ্ছলদের ভিড়

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল হক খান বলেন—

“এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে হাজারো মানুষকে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বাঁচানো যাচ্ছে। তবে স্বচ্ছল অনেকেও সেবা নিচ্ছেন, ফলে প্রান্তিক মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। বই বিতরণ, যন্ত্রাংশ ও ওষুধের সংকট রয়েছে—তবু চেষ্টা করছি যেন এনসিডির কাজ বন্ধ না হয়।”

● দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার ৭০%

সরকারের স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই অসংক্রামক রোগে, যার ৩৪ শতাংশ হৃদরোগে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস এই রোগের প্রধান কারণ। ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ এবং মৃত্যুর প্রধান কারণও হৃদরোগ।

● ক্রয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন—

“আগে এসব ওষুধ কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ করা হতো, এখন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনই কিনবে—এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

ওষুধ সরবরাহ পেলেও দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews