শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
স্বপ্নপূরণের অনন্য দৃষ্টান্ত: শ্রীধরার সন্তান ফরহাদ আহমদ লিমন এখন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ অফিসার জুড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রবাসফেরত যুবকের মৃত্যু এপেক্স ক্লাব অব জুড়ী ভ্যালির ১৭তম পালাবদল অনুষ্ঠিত বক্তৃতা আর হুমকির ঘোরপাকে জাতি কি এগিয়ে যাবে? বাগিরঘাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন শিক্ষানুরাগী বিলাল উদ্দিন আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান শিশু সাময়িক বরখাস্ত বিয়ানীবাজারে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ চিত্র বিয়ানীবাজার পৌরসভা: জনআকাঙ্ক্ষা ও আগামীর নেতৃত্বের প্রত্যাশা বেইজিংয়ে তারেক রহমান: আলোচনায় তিস্তা ও বিনিয়োগ সহযোগিতার উদ্যোগ ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ বিয়ানীবাজারবাসী

অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থপ্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা : শেষ অধ্যায়ে বেদনার প্রতিচ্ছবি

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫
  • ৫৪৬ বার পড়া হয়েছে

আব্দুদ দাইয়ান:
অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক একটি চিত্র আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত ভেসে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্তনাদ—যাঁরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাপ্য অর্থের জন্য। এই দীর্ঘসূত্রিতা যেন এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ৭২ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গেছে, ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালের অনেক আবেদনকারী এখনও অবসরকালীন টাকা পাননি—কেউ কেউ কেবলমাত্র কল্যাণভাতা পেয়েছেন। আবেদন দাখিলের পর আবেদনকারীর হাতে লিখিতভাবে জানানো হয়, তাঁর আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে ২ বছর ৯ মাস পর! অর্থাৎ প্রকৃত অর্থ হাতে পেতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ বছর।

একজন শিক্ষক তাঁর জীবনের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও সৃজনশীল সময় সমাজের কল্যাণে ব্যয় করেন। ৬০ বছর বয়সে অবসরে যাওয়ার পর তাঁর কোনো নিয়মিত আর্থিক সুবিধা থাকে না। অথচ তখনই সন্তানের লেখাপড়া, সংসারের খরচ ও নিজের চিকিৎসার জন্য অর্থের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়েই তাঁকে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়। এমনও দেখা যায়, কেউ কেউ স্থায়ী রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না।

এই মহান পেশাকে যারা শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, এক নিষ্ঠার সাথে গ্রহণ করেছেন—তাঁদের জীবনের শেষ পরিণতি যদি এমন আর্থিক কষ্টে পরিণত হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য লজ্জাজনক।

এখানে মনে রাখতে হবে, প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ কেটে নিয়ে এই ট্রাস্ট ফান্ডে জমা করা হয়। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের থেকেও সেশনের শুরুতে নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেয়া হয়। তাহলে কেন তাঁদের নিজেদের জমানো অর্থ পেতে এত বছর অপেক্ষা করতে হয়?

শোনা যাচ্ছে, ফান্ডে অর্থের সংকট ও কমিটি গঠনের জটিলতা এই দীর্ঘসূত্রিতার অন্যতম কারণ। অথচ সরকারি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করলেই তো বিষয়টি সহজভাবে সমাধানযোগ্য। অপেক্ষমানদের মধ্য থেকে সিরিয়াল অনুযায়ী যাঁদেরকে অর্থ প্রদান সম্ভব, তাঁদের দ্রুত প্রদান করাই তো যৌক্তিক ও মানবিক সিদ্ধান্ত।

সবচেয়ে মর্মান্তিক হচ্ছে, এই অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার কারণে অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কেউ কেউ তাঁদের প্রাপ্য টাকা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেন। শিক্ষকরা কাউকে দায়ী না করে নিজেদের নিয়তিকে দোষারোপ করেন—এটিই সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্য।

এই অবস্থার পরিবর্তনে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ একটি আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ট্রাস্ট ফান্ড সমৃদ্ধ করে দ্রুত প্রাপ্য অর্থ প্রদান নিশ্চিত করতে। শোনা যাচ্ছে, সরকার ইতোমধ্যে সেই প্রস্তাব অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

তবে এই সংকট নিরসনে এখনই প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কাটিয়ে যেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত, সহজ ও সম্মানজনকভাবে পেতে পারেন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নীতিনির্ধারকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও কৃপাদৃষ্টি কামনা করছি।

শিক্ষক শুধু পেশাজীবী নন, তিনি জাতির অভিভাবক। তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়টি যেন দুঃখ নয়, সম্মানের হয়—এটাই হোক আমাদের রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews