1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শিক্ষানুরাগী আলহাজ সোহেল আহমদ চৌধুরীর মমতাময়ী মায়ের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ রোটারি বর্ষে রেকর্ড ১৪২ প্রকল্প বাস্তবায়ন; প্রচ্ছদের মসজিদ নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সংশোধন জানাজার শেড: বিলাসিতা নয়, সময়ের দাবি প্রতিবাদী লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শমসের আলম মমতাময়ী মাতার ইন্তেকাল দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন সাময়িক বহিষ্কার বাজেট ২০২৬-২৭: কোন কোন পণ্যের দাম কমতে পারে, স্বস্তি মিলবে যেসব খাতে বক্তব্যের বাইরে বাস্তবতার প্রশ্ন: বিয়ানীবাজারের আইনশৃঙ্খলা সভার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বিয়ানীবাজারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা: ‘অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ নয়, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে চাই সবার অংশগ্রহণ’ — পুলিশ সুপার দ্রুতগতির অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল: ২০২৮ সালে আসছে নতুন কারিকুলাম

সিলেট-৬ আসনে প্রতীক, প্রতিশ্রুতি, আঞ্চলিকতা ও ‘নীরব ভোটের’ অঙ্কে জমজমাট নির্বাচনী মাঠ

পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চখণ্ড আই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসন পরিণত হয়েছে উত্তপ্ত রাজনৈতিক হটস্পটে। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, কর্মীদের তৎপরতা আর ভোটার টানার বহুমুখী কৌশলে পুরো এলাকা যেন এক নির্বাচনী নাট্যমঞ্চে রূপ নিয়েছে। দিন যত গড়াচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ ততই বাড়ছে।

হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হবে?
ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ট্রাক, হেলিকপ্টার ও লাঙ্গল—পাঁচ প্রতীকের পাঁচ ভিন্ন বার্তা ও কৌশলে মুখর হয়ে উঠেছে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার।

মাঠের চিত্র: দৃশ্যমান প্রচারণা আর নীরব হিসাব

ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা। কোথাও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, কোথাও পরিবর্তনের আহ্বান, আবার কোথাও ধর্মীয় ও নৈতিক রাজনীতির ভাষ্য—ভোটার মন জয়ের প্রতিযোগিতা চলছে সমানতালে।
দুই উপজেলাজুড়ে ব্যানার-বিলবোর্ডে ছয়লাব, নির্বাচনী অফিসগুলোতে বাড়ছে নেতাকর্মীদের ভিড়। একাধিক সূত্র জানায়, প্রকাশ্য প্রচারণার পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক ভোট, প্রভাবশালী ভোটারদের অবস্থান ও নীরব সমর্থনের অঙ্ক কষার হিসাব-নিকাশেও পিছিয়ে নেই কেউ।

প্রার্থী ও প্রতীকের সমীকরণ

সিলেট-৬ আসনে এবারের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন— বিএনপি মনোনীত এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত এডভোকেট জাহিদুর রহমান (ট্রাক), স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার), জাতীয় পার্টি মনোনীত আব্দুন নূর (লাঙ্গল)।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াইয়ের মূল কেন্দ্র ধানের শীষ হলেও অন্য প্রতীকগুলোও নিজেদের শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে মরিয়া। বিশেষ করে নতুন ভোটার ও নিরপেক্ষ ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

আঞ্চলিকতা: নীরব কিন্তু প্রভাবশালী ফ্যাক্টর

এ নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছে আঞ্চলিক সমীকরণও। ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলায়, আর বাকি চার প্রার্থীর বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলায়। স্থানীয় পর্যায়ে এই বিষয়টি ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা আঞ্চলিকতা, প্রতীক না কি প্রতিশ্রুতি—কোনটিকে প্রাধান্য দেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্ভাব্য প্রভাব: গোপন ভোটের অঙ্ক

প্রকাশ্য প্রচারণার বাইরে আরেকটি সংবেদনশীল আলোচ্য বিষয় হলো—নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের আদর্শে প্রভাবিত ভোটব্যাংক। তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি বা অবস্থান নিতে না পারলেও স্থানীয় পর্যায়ে তাদের সমর্থক ও সহানুভূতিশীল ভোটারদের উপস্থিতি পুরোপুরি অস্বীকার করা যাচ্ছে না বলে মত বিশ্লেষকদের।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ভোট একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে সরাসরি না গিয়ে কৌশলগতভাবে বিভক্ত বা নীরব সমর্থনের মাধ্যমে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি হাড্ডাহাড্ডি হয়, তবে এই ‘নীরব ভোট’ই শেষ পর্যন্ত ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও তাদের অতীত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ও সামাজিক প্রভাববলয় ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তবে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তাই সিলেট-৬ আসনের নির্বাচন কেবল পাঁচ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি প্রতীক, আঞ্চলিকতা, রাজনৈতিক বার্তা, সংগঠনের শক্তি এবং নীরব ভোটব্যাংকের সম্মিলিত পরীক্ষা। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—সে হিসাব দেবে সময়ই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, এবারের নির্বাচন সিলেট-৬–এ হবে কৌশলী, হিসাবি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনাপূর্ণ।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট