ছবি ভিডিও ভিডিও
অর্থনীতি, জাতীয়

মহার্ঘ ভাতা নয়, বিশেষ প্রণোদনাই বাড়ছে : সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাজেটে নতুন বার্তা

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫ | ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ




পঞ্চখণ্ড আই রিপোর্টিং ডেস্ক :
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা না বাড়িয়ে বিশেষ প্রণোদনার হার বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, “২০১৫ সালের পর থেকে নতুন কোনো বেতন কাঠামো না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।”

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে ১০ম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোট ১৫ শতাংশ (বিদ্যমান ৫ শতাংশসহ) এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই প্রণোদনার হার বৃদ্ধির ফলে ১০ম গ্রেড থেকে নিচের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ এবং উচ্চ গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা পাবেন। এতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছিলেন। এবার তার ধারাবাহিকতা আরও বর্ধিত আকারে বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

★ বেতন-ভাতা বরাদ্দের চিত্র:
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেতন-ভাতা ও ভাতা বাবদ মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অফিসারদের বেতন ১৩ হাজার ৩৪২ কোটি, কর্মচারীদের বেতন ৩০ হাজার ১ কোটি এবং বিভিন্ন ভাতা বাবদ ব্যয় ৪০ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মোট ৭৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৮১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে হ্রাস করা হয়।

এবার প্রায় ৫০ হাজার সরকারি চাকরিজীবী অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে পেনশনার সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৮.৫০ লাখে। এতে পেনশন ব্যয় বাড়লেও বেতন-ভাতায় বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা হয়েছে।

★ বিশেষজ্ঞদের মতামত:
সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা বাড়ানো যৌক্তিক হলেও এর ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “বেসরকারি খাতে বেতন না বাড়লে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাই সামাজিক ন্যায্যতা রক্ষায় সরকারকে বেসরকারি খাতের ওপর করের চাপ কমানো ও সরকারি সেবা সহজলভ্য করার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।”