সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ২৮ বছরের সেবাযাত্রার গর্ব ও স্মৃতির আলপনা অবাধ্যতার মূল্য: নিরাপদ হোক সন্তানের ভবিষ্যৎ এক মাসেও বিয়ানীবাজাররের রুপক মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির বিয়ানীবাজারে কিশোরী রিয়া হত্যা: পলাতক বাবা গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য: দালাল নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে সরকার বিয়ানীবাজারে পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্রেতার ঘুষিতে মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু জাতীয় সেরা খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি শরফ উদ্দিন খসরু আর নেই চরিত্রবান নেতৃত্ব ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে দক্ষিণ শ্রীধরা তরুণ সংঘের অভিষেক

খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ২৮ বছরের সেবাযাত্রার গর্ব ও স্মৃতির আলপনা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বিধু ভূষণ বৈদ্য, সাবেক প্রধান শিক্ষক

দীর্ঘ ২৮ বছরের কর্মজীবনের অবসান ঘটলেও খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজও আমার হৃদয়ের সবচেয়ে আপন ঠিকানা। সময়ের ব্যবধানে অনেক কিছু বদলে গেছে, কিন্তু এই বিদ্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা অগণিত স্মৃতি আজও আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

আজও মনে পড়ে প্রতিদিনের সেই পরিচিত পথ, যে পথে হেঁটে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতাম। মনে পড়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের স্বপ্ন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার নিরন্তর প্রচেষ্টা, আর নিজের হাতে পরম যত্নে গড়ে তোলা ফুলের বাগান। প্রতিটি উদ্যোগের পেছনে ছিল বিদ্যালয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ। কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির প্রত্যাশা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য।

এই দীর্ঘ পথচলা কখনো একার ছিল না। আমার সহযাত্রী ছিলেন সেই সময়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক এবং এলাকার সচেতন মানুষ। সবার সম্মিলিত শ্রম, আন্তরিকতা ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই বিদ্যালয়টি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। তাঁদের প্রত্যেকের অবদান আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। এই অর্জন আমাদের সবার।

অবসরের পরও মন বারবার ফিরে যায় সেই প্রিয় প্রাঙ্গণে। কানে যেন এখনো ভেসে আসে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণচঞ্চল কোলাহল, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান আর প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার পরিচিত আবহ। কর্মময় সেই দিনগুলোর স্মৃতি আজও আমাকে আবেগাপ্লুত করে।

সম্প্রতি যখন জানতে পারলাম, আমাদের সবার ভালোবাসা ও শ্রমে গড়ে ওঠা খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে, তখন আনন্দে হৃদয় ভরে উঠেছে। একজন সাবেক প্রধান শিক্ষক হিসেবে এটি আমার জন্য গর্বের, আবেগের এবং পরম প্রাপ্তির মুহূর্ত।

আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক, সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদকে। তাঁদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমই এই সাফল্যের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছে। এই সম্মান শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি গোটা এলাকার মানুষের গর্ব।

আমার বিশ্বাস, খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবিষ্যতেও শিক্ষা, মানবিকতা ও সৃজনশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই বিদ্যাপীঠের প্রতিটি ইট, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। অবসরে থাকলেও আমার ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা সবসময় এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে থাকবে।

আমি প্রার্থনা করি, এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী জ্ঞানের আলো, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। আমাদের প্রিয় বিদ্যালয়ের সুনাম ও অগ্রযাত্রা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অব্যাহত থাকুক—এটাই আমার হৃদয়ের গভীরতম কামনা।

© লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews