1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শিক্ষানুরাগী আলহাজ সোহেল আহমদ চৌধুরীর মমতাময়ী মায়ের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ রোটারি বর্ষে রেকর্ড ১৪২ প্রকল্প বাস্তবায়ন; প্রচ্ছদের মসজিদ নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সংশোধন জানাজার শেড: বিলাসিতা নয়, সময়ের দাবি প্রতিবাদী লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শমসের আলম মমতাময়ী মাতার ইন্তেকাল দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন সাময়িক বহিষ্কার বাজেট ২০২৬-২৭: কোন কোন পণ্যের দাম কমতে পারে, স্বস্তি মিলবে যেসব খাতে বক্তব্যের বাইরে বাস্তবতার প্রশ্ন: বিয়ানীবাজারের আইনশৃঙ্খলা সভার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বিয়ানীবাজারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা: ‘অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ নয়, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে চাই সবার অংশগ্রহণ’ — পুলিশ সুপার দ্রুতগতির অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল: ২০২৮ সালে আসছে নতুন কারিকুলাম

বাউল জাহেদ সরকার: নেশার সংগীতের এক সাধক

লেখক-Π আতাউর রহমান, গবেষক ও কলামিস্ট।
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

আতাউর রহমান

লোকসংগীতের জগতে সব শিল্পী আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন না। কেউ কেউ নীরবে, নিরবচ্ছিন্ন সাধনায় নিজের পথ তৈরি করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাই হয়ে ওঠেন প্রকৃত প্রতিনিধি। বিয়ানীবাজারের মুল্লাপুর গ্রামের সন্তান মো. জাহেদ আহমদ, যিনি শ্রোতাদের কাছে পরিচিত বাউল জাহেদ সরকার নামে—তেমনই এক নির্লোভ শিল্পী।

পিতা মো. আলা উদ্দিনের পরিবারে জন্ম নেওয়া জাহেদ সরকারের শৈশব কেটেছে গ্রামীণ প্রকৃতি, মানুষের জীবনসংগ্রাম আর লোকজ সংস্কৃতির আবহে। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে ছিল শিল্পের প্রতি গভীর টান। স্কুলজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি গান গাওয়া ও আঁকাআঁকিতেই বেশি সময় কাটাতেন তিনি। সেই সময় থেকেই তার কণ্ঠে ও মননে জন্ম নেয় বাউলিয়ানার বীজ।
শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ছড়াকার লুৎফুর রহমান বলেন, “আমরা একসাথে স্কুলে পড়েছি। তখনই দেখেছি—জাহেদ আলাদা। সে আর্ট করত, গান গাইতো। আজ সে পাকা বাউল, গীতকার ও সুরকার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একদিন সে বাউল জগতের প্রাণপুরুষদের একজন হবে।”

এই বিশ্বাস যে কেবল আবেগ নয়, তার প্রমাণ মিলেছে সময়ের পরিক্রমায়। আজ বাউল জাহেদ সরকার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী। কিন্তু তার কাছে এসব অর্জন কখনোই আত্মপ্রচারের উপলক্ষ নয়। তিনি মনে করেন, সংগীত কোনো পেশা নয়—এটি আত্মার নেশা।

নিজের অবস্থান সম্পর্কে জাহেদ সরকার বলেন,
“সংগীত জগৎকে আমি পেশা হিসেবে কখনো দেখিনি। নেশা হিসেবে দেখেছি। এখানে আসতে কাউকে তেল মারিনি, তেল মারার প্রয়োজনও মনে করিনি।”
এই কথার ভেতরেই লুকিয়ে আছে তার জীবনদর্শন। আজকের দিনে যখন অনেকেই দ্রুত পরিচিতি আর সুবিধার জন্য আপসোস করেন, তখন জাহেদ সরকার নিজের জায়গায় অবিচল। উস্তাদ ও গুরুজনের প্রতি সম্মান, ছোটদের প্রতি ভালোবাসা—এই নৈতিকতার পথেই তিনি আজীবন চলতে চান।

তবে অন্যায় ও অসততা তিনি সহ্য করতে পারেন না। শিল্পের নামে সীমালঙ্ঘন বা অন্যের জায়গা দখলের চেষ্টা তাকে ব্যথিত করে। সে প্রসঙ্গে তার উচ্চারণ স্পষ্ট ও দৃঢ়—
“যখন দেখি কেউ ওভারটেক করতে যাচ্ছে, তখন মেনে নিতে কষ্ট হয়। তোরা তোদের মতো থাক, আমি আমার মতোই আছি এবং থাকব—দয়াল ভরসা।”

এই ‘দয়াল ভরসা’ই যেন তার জীবনমন্ত্র। আত্মসম্মান আর সাধনার সমন্বয়ে তিনি বিশ্বাস করেন—সময়ই প্রকৃত বিচারক। জনপ্রিয়তা আসুক বা না আসুক, নিজের পথ থেকে সরে যাওয়াকে তিনি ব্যর্থতা মনে করেন।

বাউল জাহেদ সরকারের গান কেবল সুরের মাধুর্য নয়, বরং দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। সেখানে আছে মানবপ্রেম, আত্মজিজ্ঞাসা ও জীবনবোধ। বাউল গানকে তিনি দেখেন আত্মার মুক্তির ভাষা হিসেবে—যেখানে প্রতিযোগিতা নয়, মুখ্য হলো সাধনা।

আজ হয়তো তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নন। কিন্তু যেসব শিল্পী নীরবে নিজের জায়গা তৈরি করেন, তারাই একদিন ইতিহাসে ঠাঁই পান। বাউল জাহেদ সরকার সেই ধারারই একজন—যিনি বিশ্বাস করেন, শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সততা।
তাই সময়ই বলে দেবে—এই মাটির সন্তান একদিন বাউলিয়ানার ইতিহাসে কতটা গভীর ছাপ রেখে যেতে পারেন।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট