1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
রোটারি বর্ষে রেকর্ড ১৪২ প্রকল্প বাস্তবায়ন; প্রচ্ছদের মসজিদ নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সংশোধন জানাজার শেড: বিলাসিতা নয়, সময়ের দাবি প্রতিবাদী লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শমসের আলম মমতাময়ী মাতার ইন্তেকাল দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন সাময়িক বহিষ্কার বাজেট ২০২৬-২৭: কোন কোন পণ্যের দাম কমতে পারে, স্বস্তি মিলবে যেসব খাতে বক্তব্যের বাইরে বাস্তবতার প্রশ্ন: বিয়ানীবাজারের আইনশৃঙ্খলা সভার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বিয়ানীবাজারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা: ‘অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ নয়, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে চাই সবার অংশগ্রহণ’ — পুলিশ সুপার দ্রুতগতির অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল: ২০২৮ সালে আসছে নতুন কারিকুলাম অবশেষে স্বস্তির আলো: অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অপেক্ষায় থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর

রোটারি বর্ষে রেকর্ড ১৪২ প্রকল্প বাস্তবায়ন; প্রচ্ছদের মসজিদ নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সংশোধন

পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

প্রায় ৬৫ লাখ ৫২ হাজার টাকার মানবসেবা কার্যক্রম সম্পন্ন; বাহাদুরপুর পুরানবাড়ি জামে মসজিদ ১৯১৬ সালে নির্মিত, মোগল আমলের নয়।

পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক :
বিয়ানীবাজারের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে Rotary Club of Beanibazar। রোটারি বর্ষ ২০২৫-২৬-এর সমাপ্তিতে ক্লাবটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট Rtn. Hasan Ahmed, RFSM এক বার্তায় পুরো বছরের অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং মানবসেবামূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য “Unite For Good”-কে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে অঙ্গীকার নিয়ে রোটারি বর্ষের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার সফল বাস্তবায়ন ঘটেছে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

বিদায়ী প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি রোটাবর্ষে ক্লাবটি মোট ১৪২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যা ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৫৯৬ টাকার সেবামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিশুদ্ধ পানির জন্য ৩৬টি টিউবওয়েল স্থাপন, অসহায় পরিবারের জন্য ২৪টি গৃহ নির্মাণ সহায়তা এবং ২টি পূর্ণাঙ্গ ঘর নির্মাণ, ২৮টি মসজিদ ও মাদ্রাসায় অনুদান প্রদান, ১৫ জন রোগীর চিকিৎসা সহায়তা, ৩টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্যসামগ্রী সহায়তা, ইফতার মাহফিল এবং ঈদ উপহার বিতরণ। এছাড়াও বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি।

Rtn. Hasan Ahmed তাঁর বক্তব্যে বলেন, এ অর্জন কোনো ব্যক্তির নয়; বরং এটি Rotary Club of Beanibazar পরিবারের সম্মিলিত সাফল্য। তিনি ক্লাবের সম্মানিত Past Presidents, Board of Directors, Rtn. PP Kamal Hussain, Club Learning Facilitator Rtn. PP Dr. Abu Ishaq Azad, Vice President Rtn. Delwar Hossain, Secretary Rtn. Dr. Abdus Salam (Mukta), Treasurer Rtn. Ali Ahmed, সকল রোটারিয়ান সদস্য, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী রোটারিয়ান এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, রোটারিয়ান পরিবারের সদস্যদের নীরব সহযোগিতা, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণাও এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দায়িত্ব পালনের পথে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতেও মানবসেবায় সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রচ্ছদে প্রদত্ত মসজিদ নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সংশোধন

এদিকে, রোটারি ক্লাবের প্রকাশনা ‘সুবেনীড়’-এর প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বাহাদুরপুর পুরানবাড়ি জামে মসজিদ সম্পর্কে প্রচলিত একটি তথ্যের ঐতিহাসিক সংশোধনের বিষয়টি সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজারের ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি আনুমানিক ১৯১৬ সালের দিকে শফিকুল হক নির্মাণ করেন। চুন-চুড়কি এবং দৃষ্টিনন্দন সিরামিক তৈজসপত্রের টুকরো ব্যবহার করে নির্মিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি স্থাপত্য সৌন্দর্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭০৭ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোগল সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা ঘটে। সে বিবেচনায় ১৯১৬ সালে নির্মিত বাহাদুরপুর পুরানবাড়ি জামে মসজিদকে মোগল আমলের স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়। তবে মসজিদটির স্থাপত্যে মোগল ধাঁচের প্রভাব বিদ্যমান থাকতে পারে, যা অনেক সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির জন্ম দেয়।

বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন রয়েছে। সরকারি এ সংস্থার উদ্যোগে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো এর সংস্কার কাজ পরিচালিত হয়। সংস্কারের ফলে ঐতিহ্যবাহী এ স্থাপনাটির সংরক্ষণ ও নান্দনিকতা রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

রোটারি বর্ষের বিদায়ী প্রান্তে একদিকে যেমন মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের গুরুত্বও নতুনভাবে সামনে এসেছে।

মানবকল্যাণের পাশাপাশি ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুল দলিল রচনায় সহায়ক হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিশেষে মানবসেবার এ যাত্রা নতুন উদ্যম ও প্রত্যয়ে অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট