মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
৪৭ কোটি টাকায় বিয়ানীবাজার-সারপার-গঁজুকাটা সড়কের উন্নয়ন শুরু বিয়ানীবাজারে মডেল মসজিদ সদরেই নির্মাণের দাবিতে ইউএনওকে স্মারকলিপি বিয়ানীবাজারে মডেল মসজিদ সদরেই নির্মাণের দাবিতে নাগরিক কমিটি গঠন এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা আর অনিশ্চয়তায় নয়—১৫ আগস্ট থেকে নতুন উদ্যোগ বিয়ানীবাজারের মডেল মসজিদ: জমি নেই, নাকি সদরের জন্য সদিচ্ছা নেই? ১০ আগস্ট এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা ঘুষখোরের শাসন ও লুটেরার রাজত্ব: নাগরিক কি শুধু দর্শক? ইউপি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি: গুজবের আড়ালে কী বলছে আইন ‘৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন, বিজয়ের দিন’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাইয়ের দুই বছর: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি নাকি অপূর্ণতার হিসাব?

বাউল জাহেদ সরকার: নেশার সংগীতের এক সাধক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬৩ বার পড়া হয়েছে

আতাউর রহমান

লোকসংগীতের জগতে সব শিল্পী আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন না। কেউ কেউ নীরবে, নিরবচ্ছিন্ন সাধনায় নিজের পথ তৈরি করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাই হয়ে ওঠেন প্রকৃত প্রতিনিধি। বিয়ানীবাজারের মুল্লাপুর গ্রামের সন্তান মো. জাহেদ আহমদ, যিনি শ্রোতাদের কাছে পরিচিত বাউল জাহেদ সরকার নামে—তেমনই এক নির্লোভ শিল্পী।

পিতা মো. আলা উদ্দিনের পরিবারে জন্ম নেওয়া জাহেদ সরকারের শৈশব কেটেছে গ্রামীণ প্রকৃতি, মানুষের জীবনসংগ্রাম আর লোকজ সংস্কৃতির আবহে। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে ছিল শিল্পের প্রতি গভীর টান। স্কুলজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি গান গাওয়া ও আঁকাআঁকিতেই বেশি সময় কাটাতেন তিনি। সেই সময় থেকেই তার কণ্ঠে ও মননে জন্ম নেয় বাউলিয়ানার বীজ।
শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ছড়াকার লুৎফুর রহমান বলেন, “আমরা একসাথে স্কুলে পড়েছি। তখনই দেখেছি—জাহেদ আলাদা। সে আর্ট করত, গান গাইতো। আজ সে পাকা বাউল, গীতকার ও সুরকার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একদিন সে বাউল জগতের প্রাণপুরুষদের একজন হবে।”

এই বিশ্বাস যে কেবল আবেগ নয়, তার প্রমাণ মিলেছে সময়ের পরিক্রমায়। আজ বাউল জাহেদ সরকার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী। কিন্তু তার কাছে এসব অর্জন কখনোই আত্মপ্রচারের উপলক্ষ নয়। তিনি মনে করেন, সংগীত কোনো পেশা নয়—এটি আত্মার নেশা।

নিজের অবস্থান সম্পর্কে জাহেদ সরকার বলেন,
“সংগীত জগৎকে আমি পেশা হিসেবে কখনো দেখিনি। নেশা হিসেবে দেখেছি। এখানে আসতে কাউকে তেল মারিনি, তেল মারার প্রয়োজনও মনে করিনি।”
এই কথার ভেতরেই লুকিয়ে আছে তার জীবনদর্শন। আজকের দিনে যখন অনেকেই দ্রুত পরিচিতি আর সুবিধার জন্য আপসোস করেন, তখন জাহেদ সরকার নিজের জায়গায় অবিচল। উস্তাদ ও গুরুজনের প্রতি সম্মান, ছোটদের প্রতি ভালোবাসা—এই নৈতিকতার পথেই তিনি আজীবন চলতে চান।

তবে অন্যায় ও অসততা তিনি সহ্য করতে পারেন না। শিল্পের নামে সীমালঙ্ঘন বা অন্যের জায়গা দখলের চেষ্টা তাকে ব্যথিত করে। সে প্রসঙ্গে তার উচ্চারণ স্পষ্ট ও দৃঢ়—
“যখন দেখি কেউ ওভারটেক করতে যাচ্ছে, তখন মেনে নিতে কষ্ট হয়। তোরা তোদের মতো থাক, আমি আমার মতোই আছি এবং থাকব—দয়াল ভরসা।”

এই ‘দয়াল ভরসা’ই যেন তার জীবনমন্ত্র। আত্মসম্মান আর সাধনার সমন্বয়ে তিনি বিশ্বাস করেন—সময়ই প্রকৃত বিচারক। জনপ্রিয়তা আসুক বা না আসুক, নিজের পথ থেকে সরে যাওয়াকে তিনি ব্যর্থতা মনে করেন।

বাউল জাহেদ সরকারের গান কেবল সুরের মাধুর্য নয়, বরং দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। সেখানে আছে মানবপ্রেম, আত্মজিজ্ঞাসা ও জীবনবোধ। বাউল গানকে তিনি দেখেন আত্মার মুক্তির ভাষা হিসেবে—যেখানে প্রতিযোগিতা নয়, মুখ্য হলো সাধনা।

আজ হয়তো তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নন। কিন্তু যেসব শিল্পী নীরবে নিজের জায়গা তৈরি করেন, তারাই একদিন ইতিহাসে ঠাঁই পান। বাউল জাহেদ সরকার সেই ধারারই একজন—যিনি বিশ্বাস করেন, শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সততা।
তাই সময়ই বলে দেবে—এই মাটির সন্তান একদিন বাউলিয়ানার ইতিহাসে কতটা গভীর ছাপ রেখে যেতে পারেন।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews