
পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক :
সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে এডভোকেট মো. আমান উদ্দিনের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন পোর্টালের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদারের কাছে অভিযোগগুলোর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি তাঁর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দাপ্তরিক নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো সম্পর্কে জবাব দেন। ইউএনও দপ্তর থেকে জানানো হয়, অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। কোনো বিষয়ে নথি বা প্রমাণ উপস্থাপিত হলে তা বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা যেতে পারে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এডভোকেট আমান উদ্দিন তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে “বিশাল ক্ষমতার অধিকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার—(২য় পর্ব)” শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। এতে ট্রেড লাইসেন্স, বকেয়া অর্থ নিষ্পত্তি, কথিত ‘সিন্ডিকেট’, ঘুষ ও গোপন আর্থিক লেনদেন, লাসাইতলা সড়ক সংস্কার, উন্নয়নকাজ এবং ১৩.৭০ শতক লিজকৃত ভূমি বাতিলের হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।
ট্রেড লাইসেন্স ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদারের দপ্তর থেকে জানানো হয়, “এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, নথি বা তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করা যেতে পারে।”
কথিত ‘সিন্ডিকেট’, ঘুষ বা গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও দপ্তরের বক্তব্য, “সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। এ ধরনের কোনো অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই করা যেতে পারে।”
লাসাইতলা সড়ক ও উন্নয়নকাজে পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও দপ্তর থেকে জানানো হয়, “এ বিষয়ে কোনো টেন্ডার-ই হয়নি।” ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি প্রযোজ্য নয় বলে দপ্তরের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৩.৭০ শতক লিজকৃত ভূমি বাতিলের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও দপ্তর থেকে বলা হয়, “অত্র কার্যালয় বা ভূমি অফিস থেকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।” ভূমি-সংক্রান্ত কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম থাকলে তা সংশ্লিষ্ট বিধি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হওয়ার কথা বলেও দপ্তর থেকে জানানো হয়।
অভিযোগকারী তাঁর দাবির পক্ষে নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে ইউএনও সম্মত কি না— জানতে চাইলে দপ্তর থেকে বলা হয়, “সুনির্দিষ্ট নথি ও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে বিষয়গুলো বিধি মোতাবেক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা যেতে পারে। তদন্তের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন।”
ইউএনও দপ্তর আরও জানায়, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো বিষয় নেই; আইন, বিধি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, এডভোকেট আমান উদ্দিনের ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর পক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ বা অন্যান্য দলিল প্রকাশ্যে উপস্থাপিত হয়েছে কি না, সেটিও পৃথকভাবে যাচাইয়ের বিষয়।
এ প্রতিবেদনে ফেসবুকে উত্থাপিত বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্যও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব।