
পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক:
আসন্ন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সিলেট বারের সিনিয়র আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহম্মেদ খানের নাম স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলার ৪নং শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা গ্রামের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহম্মেদ খান ১৯৮৬ সালে এমসি কলেজ থেকে স্নাতক এবং ১৯৯১ সালে সিলেট ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে তিনি সিলেট বারে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের আইনজীবী জীবনে তিনি সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন। আইনজীবীদের সমর্থনে তিনি বার সমিতির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি সিলেট বারের এপিপি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই আইনজীবী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে নিজ অবস্থান তৈরি করেন। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আইন ও রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি এল. এ. খানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অবদান রাখছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য—বালিঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও উপশহর বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। উপশহর কল্যাণ পরিষদের বর্তমান সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবেও তিনি কাজ করছেন; এর আগে চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয়দের মতে, অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহম্মেদ খান একজন সজ্জন, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। দলীয় ঐক্য রক্ষায় অতীতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার মতো নজিরও রয়েছে তার। সিলেট শহরে বসবাস করলেও নিজ এলাকার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ ও দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে তিনি প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।