1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ছয় দফার প্রথম শহীদ, পঞ্চখণ্ডের গর্ব মনু মিয়া বিয়ানীবাজারে তিন মৃত্যু, অমীমাংসিত অসংখ্য প্রশ্ন বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ : শুরু হবে অবসরভাতা কার্যক্রম তাওহীদা জান্নাতের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়: দায়েরকৃত অভিযোগ প্রত্যাহার, তদন্ত চলমান সফল নারী ও সার্থক পুরুষ: একটি সুখী পরিবারের সাতকাহন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিয়ানীবাজার উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মিনা— শুরু হলো পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা বিয়ানীবাজারে ‘জুঁই প্রকাশ সাহিত্য আড্ডা’র প্রাণবন্ত আয়োজনে “দেহই আমার মুলুকখানা” ও “সুদীর্ঘ শব্দকথা” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন সম্পন্ন আমেরিকার গ্রিন কার্ডে নতুন কড়াকড়ি: নিজ দেশে ফিরেই করতে হবে আবেদন!

উপসম্পাদকীয়: এসএসসি ২০২৫: সিলেট বোর্ডে ফলাফলের পেছনে যে বাস্তবতা

আতাউর রহমান, শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও সমাজচিন্তক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৪১৭ বার পড়া হয়েছে

-Π আতাউর রহমান

এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে নানা প্রত্যাশা ও উদ্বেগের মাঝে। কিন্তু সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা আমাদেরকে এক গভীর চিন্তার জায়গায় নিয়ে যায়। পাসের হার কমেছে ৪.৭৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ অর্ধেকে নেমে এসেছে; ২০২৪ সালের তুলনায় এবারের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৭টি কম। অথচ এই অঞ্চলটির শিক্ষা-ইতিহাস ও সামগ্রিক অগ্রযাত্রা ছিল বরাবরই গর্বের। প্রশ্ন হচ্ছে—এই পতনের কারণ কী?

বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় সংকট দুটো বিষয়ের—গণিত ও ইংরেজি। গণিতে ফেল করেছে ১৬.৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, ইংরেজিতে ফেলের হার ১০-১২ শতাংশ। এই দুই বিষয়ে দুর্বলতা গোটা ফলাফলে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বাস্তবতা হলো, আমাদের গ্রামীণ ও দুর্গম হাওরাঞ্চলের অনেক স্কুলেই এসব বিষয়ের মানসম্পন্ন শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীরা কোচিং নির্ভর হয়ে পড়ছে, যা সুশৃঙ্খল পাঠদানের বিকল্প হতে পারে না।

অন্যদিকে, “জুলাই অভ্যুত্থান”—অর্থাৎ রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, ও নিয়মিত পাঠদান বিঘ্নিত হওয়াও ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। সারাদেশেই এ বছরের গড় পাসের হার কমেছে, তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি এই বাস্তবতাকে আগেভাগেই মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে পারিনি?

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে একটি বার্তা। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ ভালো করলেও মানবিক বিভাগে পাসের হার ৬৪.৭১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ মাত্র ১০৯টি। এটি শিক্ষাক্রমের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয় না তো?

এবার একটি ইতিবাচক দিকও লক্ষণীয়—৯৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান ‘শূন্য পাস’ হয়নি। সাতটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছে। এটি দেখায়, সম্ভাবনা এখনো জীবন্ত। তবে সেই সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে হলে আমাদের একগুচ্ছ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে:

সবশেষে, এ বছর ছেলে শিক্ষার্থীরা সামান্য এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক পাসের হার ছেলেদের ৬৮.৬২% এবং মেয়েদের ৬৮.৫৪%—যা প্রায় সমান। এটি নারী শিক্ষার অগ্রগতির ইতিবাচক ইঙ্গিত।

একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শিক্ষার মান দিয়ে। সিলেট বোর্ডের এবারের এসএসসি ফলাফল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—শুধু ফলাফল নয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার শেকড়ে কাঠামোগত দুর্বলতা আছে। এখনই যদি এই দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে এগিয়ে না যাই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি ঠেকানো কঠিন হবে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট