1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ভূমিপুত্রের আদর্শিক বিজয়: নৈতিকতার প্রত্যাবর্তন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারী ফজলুর রহমান’র বিজয় লাভ ত্রয়োদশ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব: বিজয়ী ৭ প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে হাঁস প্রতীকের উড়াল: রুমিন ফারহানার ৩৮ হাজারের বেশি ভোটে নিরঙ্কুশ জয় সিলেট বিভাগে জামায়াতে ইসলামী কোনো আসনে জয় পায়নি: ১৮টিতে বিএনপি ও ১টিতে খেলাফত মজলিস সিলেট-৬ আসনে বেসরকারি ফলে এমরান চৌধুরীর জয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আজ ভোটগ্রহণ শুরু সিলেট-৬: প্রচার শেষ, ভোটের প্রস্তুতিতে কঠোর নিরাপত্তা সাংবাদিক আব্দুল খালিকের ভাইয়ের ইন্তেকাল: প্রেসক্লাবের শোক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাস সংরক্ষণে এক অনন্য প্রয়াস : ‘গোলাপগঞ্জের পাঠশালা’

নিবন্ধ: মুখোশ নয় মানুষ হও: আতাউর রহমান

আতাউর রহমান | শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও সমাজচিন্তক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫
  • ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা সামনাসামনি মিষ্টভাষী, প্রশংসায় পঞ্চমুখ— অথচ পেছনে গিয়ে অন্যের অধিকার হরণে লিপ্ত হন। মুখে সদাচরণ আর অন্তরে কপটতা নিয়ে তাঁরা সমাজে চলাফেরা করেন। এসব ‘ভদ্রবেশী বিষবৃক্ষ’ ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই বিষাক্ত। কিন্তু এই কপটতার সংস্কৃতি রোধ করতে শুধু সমালোচনা নয়, প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মসমালোচনা এবং নৈতিক জাগরণ।

★ সমাজের বাস্তবতায় মুখোশধারীদের চেনা যায় না সহজে:

একজন শিক্ষার্থী যখন পরিশ্রম করে পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করে, তখন কোনো ‘পরিচিত মুখ’ হয়তো গুজব রটায়— “ওর পরিবার তো প্রশ্নপত্র আগেই পেয়েছিল।” আবার যখন কোনো ভালো উদ্যোগ কেউ নেয়, তখন তাকে প্রশংসার বদলে সন্দেহের ছায়া দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু এই একই মানুষকে সামনে পেলে বলা হয়, “আপনি তো অসাধারণ কাজ করেছেন!”— এমন দ্বিচারিতা মানুষকে ঠকায়, আবার সমাজকেও বিষিয়ে তোলে।

★ নৈতিক উন্নয়ন কোনো বিলাসিতা নয়, সামাজিক প্রয়োজন:

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন—

“তোমরা কেন এমন কথা বলো যা তোমরা করো না? আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত অপ্রীতিকর যে তোমরা সে কথা বলো, যা করো না।”
(সূরা আস-সফ, আয়াত ২-৩)

এই আয়াত যেন আমাদের আয়নায় মুখ দেখায়। আজ সমাজে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে— ‘কথা ও কাজের অমিল’। ভালো কথা বলা সহজ, কিন্তু সেই কথার দায়িত্ব নেওয়া কঠিন। অথচ এই দায়িত্ববোধই মানুষকে সত্যিকারের ভালো মানুষ করে তোলে।

★আচরণে পরিবর্তন আনতে যা প্রয়োজন:

১. আত্মসমালোচনা: নিজের আচরণ নিয়ে মাঝে মাঝে চিন্তা করা— আমি কি যা বলি, তা-ই করি?
২. সততা ও স্বচ্ছতা চর্চা: অন্যের অধিকার রক্ষা করাকে একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়া।
৩. পরিচ্ছন্ন হৃদয়ের চর্চা: কারো সফলতায় ঈর্ষা নয়, প্রশংসা করা এবং নিজে ভালো কিছু করার চেষ্টা করা।
4. সমাজে ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি: পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো নিজে উদাহরণ সৃষ্টি করা।

★একটি পরিবর্তনের গল্প:

একজন ব্যবসায়ী প্রতিদিন নামাজ পড়তেন, ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিতেন, মানুষকেও সদুপদেশ দিতেন। কিন্তু তাঁর কর্মচারীরা মাসের শেষে বেতন পাওয়ার জন্য তাঁকে তদবির করতে হতো। একদিন একজন কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোনো সাহায্য পেল না। বিষয়টি যখন স্থানীয় সমাজে আলোচিত হলো, তখন তিনি গভীর আত্মসমালোচনায় ডুবে যান। এরপর থেকে তাঁর আচরণে আমূল পরিবর্তন আসে।

এই গল্পটি আমাদের বলে— প্রতিটি মানুষ পরিবর্তন করতে পারে, যদি সে নিজেকে প্রশ্ন করতে শেখে।

★পরিবর্তনের পথে কী করণীয়?

১. নিজেকে প্রশ্ন করা: আমি যা বলি, তা কি পালন করি?
২. হক আদায়ে সচেতন হওয়া: অন্যের অধিকার হরণ শুধু আইনগত অপরাধ নয়, নৈতিক দেউলিয়াত্ব।
৩. প্রশংসায় সত্য থাকা: মুখে প্রশংসা, অন্তরে বিদ্বেষ— এ দ্বিচারিতা পরিহার করতে হবে।
৪. নম্রতা ও সত্যবাদিতায় অভ্যস্ত হওয়া: সমাজের উন্নয়ন মুখোশে নয়, মানবিক গুণে।

Π শেষ কথা:

সমাজকে ভালোবাসি বলেই বলছি— ভালো মানুষের মুখোশ পরা নয়, সত্যিকারের ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। নইলে সমাজে বিশ্বাস, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি— সবই ধসে পড়বে। আমরা সবাই হয়তো ফেরেশতা নই, কিন্তু একজন সৎ মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতেই পারি।

আজ, এই সময়ের বাংলাদেশে— যখন মানুষ বিভ্রান্তি, গুজব ও হিংসার বিষে আক্রান্ত— তখন প্রয়োজন এমন একটি নৈতিক জাগরণ, যেখানে সত্য, হক ও হৃদয়ের স্বচ্ছতাই হবে মানদণ্ড।

লেখক: শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও সমাজচিন্তক। প্রাক্তন সভাপতি বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট