1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রতিবাদী লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শমসের আলম মমতাময়ী মাতার ইন্তেকাল দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন সাময়িক বহিষ্কার বাজেট ২০২৬-২৭: কোন কোন পণ্যের দাম কমতে পারে, স্বস্তি মিলবে যেসব খাতে বক্তব্যের বাইরে বাস্তবতার প্রশ্ন: বিয়ানীবাজারের আইনশৃঙ্খলা সভার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বিয়ানীবাজারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা: ‘অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ নয়, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে চাই সবার অংশগ্রহণ’ — পুলিশ সুপার দ্রুতগতির অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল: ২০২৮ সালে আসছে নতুন কারিকুলাম অবশেষে স্বস্তির আলো: অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অপেক্ষায় থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর ওসি’র শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি বনাম জনআস্থা: বিয়ানীবাজারের মানুষের প্রশ্ন পল্লবীর আলোচিত শিশু নির্যাতন মামলায় মৃত্যুদণ্ড: মাত্র ১৭ দিনে বিচার সম্পন্ন, নজির স্থাপন করল আদালত

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত নিশ্চিতকরণের পদক্ষেপ জরুরি

আতাউর রহমান | শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও সমাজচিন্তক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৫২ বার পড়া হয়েছে

-Π আতাউর রহমান
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের মাধ্যমে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পেতে শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কর্মজীবনে নিয়মিত বেতনের ১০ শতাংশ এই ট্রাস্টে জমা দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়া হয়। তবুও অবসরের পর নিজেদের জমানো অর্থ পেতে অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর।

বর্তমানে প্রায় ৭২ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। জানা গেছে, ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালের বহু আবেদনকারী এখনও অবসরকালীন টাকা পাননি—কেউ কেউ কেবলমাত্র কল্যাণভাতা পেয়েছেন। আবেদন দাখিলের পর হাতে লিখিতভাবে জানানো হয় যে, কার্যক্রম শুরু হবে ২ বছর ৯ মাস পর, অর্থাৎ প্রকৃত অর্থ হাতে পেতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ বছর।

৬০ বছর বয়সে অবসরে যাওয়ার পর একজন শিক্ষকের আর কোনো নিয়মিত আয় থাকে না। অথচ সন্তানের লেখাপড়া, সংসারের খরচ এবং নিজের চিকিৎসার জন্য এই সময়েই অর্থের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সময়েই অনেক শিক্ষক চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েন, কেউ কেউ স্থায়ী রোগে আক্রান্ত হয়েও যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারেন না। এমনকি কেউ কেউ প্রাপ্য টাকা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেন—আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই অবহেলার জন্য তাঁরা কাউকে দায়ী না করে নিজেদের নিয়তিকে দোষারোপ করেন।

□ মূল সংকট:
➤ প্রধান পদ শূন্য: উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। দায়িত্বশীল নিয়োগে গাফিলতির কারণে হাজারো আবেদন আটকে আছে।

➤ অনলাইন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি: আবেদন জমা দেওয়ার জন্য অনলাইন পদ্ধতিটি জটিল ও বিভ্রান্তিকর হওয়ায় অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী আবেদনই করতে পারছেন না।

➤ বিলম্বিত অর্থপ্রদান: অবসর-উত্তর জীবনে অর্থ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

➤ তহবিলের ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনা: পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকা এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাবের অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ট্রাস্ট ফান্ড সমৃদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে প্রাপ্য অর্থ দ্রুত প্রদান সম্ভব হয়। সরকার ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে—এ জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

□ প্রস্তাবিত সমাধানের পথ:
❖ অবিলম্বে শীর্ষ পদে যোগ্য ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নিয়োগ।
❖ আবেদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও অনলাইন সিস্টেম উন্নয়ন।
❖ সময়মতো অর্থপ্রদান নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ।
❖ তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
❖ অর্থপ্রদানের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৬ মাসে সীমাবদ্ধ রাখা।

অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার সিড মানি বরাদ্দে সম্মতি দিয়েছে—এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড পাবে ২ হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্ট পাবে ২০০ কোটি টাকা। তবে এই বরাদ্দ মূলত স্থায়ী তহবিল গঠনের জন্য। ফলে দ্রুত নিয়োগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া অবসরপ্রাপ্তদের তাৎক্ষণিক ভোগান্তি লাঘবের সুযোগ খুব সীমিত।

এই মহান পেশাকে যারা জীবিকার মাধ্যম নয়, এক নিষ্ঠার সাথে গ্রহণ করেছেন—তাঁদের জীবনের শেষ পরিণতি যদি আর্থিক কষ্টে পর্যবসিত হয়, তবে তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। তাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও প্রশ্ন।

এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নীতিনির্ধারকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও আশুদৃষ্টি প্রয়োজন, যেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত, সহজ ও সম্মানজনকভাবে পেতে পারেন।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট