
মানুষের কল্যাণে সচেতনতা সৃষ্টি ও নৈতিক শুদ্ধতার আহ্বানকে কেন্দ্র করে একটি পরিমিত, দায়িত্বশীল উপসম্পাদকীয় তুলে ধরা হলো—যেখানে আইনি বাস্তবতা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। -Π সম্পাদক
আতাউর রহমান :
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক—আজ মানুষের মত প্রকাশের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই মাধ্যমেরই একটি অংশ ছদ্মনাম বা ফেইক আইডির আড়ালে মিথ্যাচার, অপপ্রচার, কুৎসা রটনা ও চরিত্র হননের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তি আক্রোশ, রাজনৈতিক বিদ্বেষ কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত থেকে ছড়ানো এসব অপতৎপরতা শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আইনের চোখে ফেইক আইডি ও অপপ্রচার
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে অনলাইনে মিথ্যা তথ্য প্রচার, মানহানি, গুজব ছড়ানো ও পরিচয় গোপন করে অপরাধ সংঘটন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত দণ্ডবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে—যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। প্রযুক্তির এই যুগে কেউই অদৃশ্য নয়; আইডির আড়ালে থাকা ব্যক্তি একসময় আইনের আওতায় আসবেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অপপ্রচারকারীরা শেষ পর্যন্ত আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে—এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।
ইসলামের দৃষ্টিতে অপপ্রচার ও পরনিন্দা
ইসলাম মিথ্যা, গিবত ও অপবাদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে—
“হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের দোষ খোঁজো না এবং একে অপরের গিবত করো না।”
(সূরা হুজুরাত : ১২)
নবী করিম (সা.) গিবতকে তুলনা করেছেন মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণের সঙ্গে—যা কেবল কল্পনাতেই একজন বিবেকবান মানুষকে শিউরে উঠতে বাধ্য করে। ফেইক আইডির আড়ালে বসে কারও সম্মানহানি করা আল্লাহর কাছে কোনোভাবেই গোপন থাকে না। দুনিয়ার আদালত এড়িয়ে গেলেও, আখিরাতের বিচারে এসব কর্মের কঠিন জবাবদিহি রয়েছে—এ বিশ্বাসই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।
নেতিবাচক মনোভাবের সামাজিক ক্ষতি
অপপ্রচার শুধু একটি পোস্টে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিবারে বিভেদ, সমাজে অবিশ্বাস এবং রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। গুজবের আগুন একবার ছড়ালে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে বহু সময় ও শ্রম নষ্ট হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—এতে নৈতিক অবক্ষয় স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, আর তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত পথে ধাবিত হয়।
শুদ্ধতার পথে ফেরার আহ্বান
এখনই সময় আত্মসমালোচনার। যারা ছদ্মনামের আড়ালে অপপ্রচারে জড়িত, তাদের মনে রাখা উচিত—আজকের একটি মিথ্যা পোস্ট আগামী জীবনের জন্য ভয়াবহ বোঝা হয়ে উঠতে পারে। আইন আছে, সমাজ আছে, আর সর্বোপরি আল্লাহ আছেন—যিনি সব দেখেন, সব জানেন।
মত প্রকাশ হোক সত্যনিষ্ঠ, সমালোচনা হোক শালীন ও দায়িত্বশীল। ফেসবুক হোক কল্যাণের মাধ্যম, বিভেদের নয়। অপপ্রচার পরিহার করে সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরলে তাতেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবার মঙ্গল।
নৈতিকতা, আইন ও ঈমান—এই তিনের সমন্বয়েই একটি সুস্থ ডিজিটাল সমাজ গড়ে উঠতে পারে।