1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
১৮ বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধান পদে আবেদন নয়: শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ সারা দেশের ৯৭৩ প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত, সিলেট বিভাগের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের চিত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক ঘোষণা রোটারি ক্লাব অব বিয়ানীবাজার-এর উদ্যোগে ৫৫ এতিম শিক্ষার্থীর মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ওয়াকিটকি–প্রাইভেটকার রহস্য: এসআই কামরুলকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন সদকাতুল ফিতর: রোজার পবিত্রতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিয়ানীবাজারে হামলা-লুট: বিচার ও সুরক্ষা চেয়ে ভুক্তভোগির সংবাদ সম্মেলন “গানম্যান নয়, ভরসা জনগণ”—এ বার্তাই এনে দিল এমরান আহমদ চৌধুরীর বিজয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা: শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কাম্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্ভর্তি ফি বন্ধ, সব লেনদেন ব্যাংকে বাধ্যতামূলক

সাদাপাথর ও জাফলং: লুটপাটে বিলীন সৌন্দর্যের স্বর্গভূমি

পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদন :

সিলেটের সীমান্তবর্তী ধলাই নদীর উৎসমুখে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সাদা পাথর, সবুজ পাহাড় আর মেঘের হাতছানির মায়াবী সমাহার একসময় ভোলাগঞ্জ, সাদাপাথর ও জাফলংকে করে তুলেছিল দেশের শীর্ষ পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সংঘবদ্ধ পাথর লুটপাট আজ এই স্বর্গভূমিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। প্রতিদিন কোটি টাকার পাথর পাচার হচ্ছে—এ অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশেই চলছে এই লুটের মহোৎসব।

■ পাথর লুটের প্রেক্ষাপট

গত বছরের সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সাদাপাথর ও জাফলংয়ে ফের শুরু হয় পাথর উত্তোলন ও পাচার। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদেই এই লুটপাট হচ্ছে। সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথর এখনো পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত না হওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর সরাসরি আইন প্রয়োগ করতে পারছে না। তবে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

■ জাফলংয়ের ইসিএ ও লুটপাটের হিসাব

২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর জাফলংকে ইসিএ ঘোষণা করা হয়। সরকারি পর্যবেক্ষণে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সেখানে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ঘনফুট পাথর মজুদ ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর এক কোটি ঘনফুটেরও বেশি পাথর ও বালি লুট হয়েছে—যার বাজারমূল্য শতকোটি টাকা। এই ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর দুটি মামলা করেছে। আসামিদের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগই বিএনপির সমর্থক, বাকি ৩০ ভাগ আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।

■ প্রশাসনের ব্যর্থতা নাকি উদাসীনতা?

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রশাসন চাইলে লুটপাট ঠেকানো সম্ভব ছিল। কিন্তু সাদাপাথর রক্ষায় তারা কখনোই প্রকৃত চেষ্টা করেনি। এক বছর আগেও কেউ সাদাপাথরে হাত দেওয়ার সাহস পেত না, অথচ এখন প্রকাশ্যে চলছে পাচার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে চাঁদা দিয়ে পাথর তোলা হতো, এখন নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ছাড়া পাথর বিক্রি করা যায় না—এমন এক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু হয়েছে।

■ সরকারের পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, পাথরমহালগুলো ইজারামুক্ত রেখে ভিয়েতনামের মতো পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে রাজস্ব ও কর্মসংস্থান দুইই বাড়বে, যা পাথর উত্তোলন থেকে প্রাপ্ত আয়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি হবে। কিন্তু এর জন্য জরুরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যা বর্তমানে অনুপস্থিত বলেই মনে করছেন তিনি।

সাদাপাথর ও জাফলং শুধু সিলেট নয়, পুরো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অমূল্য সম্পদ। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অসাধু চক্রের লোভে এই ঐশ্বর্য বিলীন হওয়ার পথে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো এই স্বর্গভূমির সৌন্দর্য শুধু ছবিতেই দেখতে পাবে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট