
১০ ইউপি প্রার্থী মনোনয়নে জামায়াত এগিয়ে, বিএনপিতে প্রতিযোগিতায়
পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে বিয়ানীবাজারে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। উপজেলার ১০ ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি। তবে ভোটের মাঠে নামার আগেই দুই দলের সামনে দেখা দিয়েছে দুই ধরনের সমীকরণ। জামায়াত যেখানে অধিকাংশ ইউনিয়নে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠ গোছাচ্ছে, সেখানে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে বিএনপিকে এখন ঘর সামলানোর পরীক্ষায় পড়তে হচ্ছে।
জামায়াতের মাঠ গোছানো প্রায় শেষ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজারের ১০ ইউনিয়নের অধিকাংশে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে জামায়াতে ইসলামী। মাত্র চারটি ইউনিয়নে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলছে।
দলের ঘোষিত তালিকায় আলীনগরে আহমদুর রহমান খান হিনু, চারখাইয়ে আমীর হোসেন চৌধুরী, দুবাগে মাহতাব উদ্দিন, মাথিউরায় শাব্বির আহমদ খান, লাউতায় দেলোওয়ার হোসেন এবং মুড়িয়ায় ফরিদ আল মামুনের নাম রয়েছে।
এছাড়া কুড়ারবাজারে আব্দুল মুকিত, শেওলায় মাসুদ আহমদ, মুল্লাপুরে আকবর হোসেন এবং তিলপাড়ায় রুকন উদ্দিন ও সাহাব উদ্দিনের নাম দলীয় বিবেচনায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা ও বাছাই শেষে প্রার্থী তালিকা জেলা পর্যায়ে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ওয়ার্ড সদস্য পদেও দলীয় প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি রুকন উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোস্তফা উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত। বেশিরভাগ জায়গায় প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। দু-একটি জায়গায় বাকি থাকলেও তা দ্রুত চূড়ান্ত হবে।
বিএনপির সামনে প্রার্থী সামলানোর চ্যালেঞ্জ
অন্যদিকে দীর্ঘ কয়েক বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাইরে থাকার পর এবার ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। নির্বাচন সামনে রেখে উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন। ফলে একজনকে চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অন্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে রাখা এখন বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ।
প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থান, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা, ত্যাগ ও বিজয়ের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
তিন ইউনিয়নে বেশি আলোচনা
চারখাই, মাথিউরা ও মুল্লাপুরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি।
চারখাইয়ে অহিদ আহমদ তালুকদার ও ইমরান আহমদ চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
মাথিউরায় আব্দুল ফাত্তাহ বকসি, কছির আলী আব্দুর রব, সাকের মাহমুদ ও এনামুল ইসলামের নাম রয়েছে।
মুল্লাপুরে আব্দুল মন্নান, সিদ্দিক আহমদ ও আব্দুল করিম দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।
এছাড়া আলীনগর, শেওলা, দুবাগ, কুড়ারবাজার, তিলপাড়া, লাউতা ও মুড়িয়া ইউনিয়নেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়তা নাকি দলীয় সমীকরণ?
প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিএনপির তৃণমূলেও চলছে নানা আলোচনা। নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, শুধু সাংগঠনিক অবস্থান বা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক নয়—সাধারণ ভোটারের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল বলেন, কেন্দ্র বা জেলা থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করেই প্রার্থী সমর্থনের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
জেলা বিএনপির সহ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন বলেন, তৃণমূলে ঐক্য ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রার্থী সমর্থন দেওয়া হলে নির্বাচনী মাঠে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ভোটের আগেই পরীক্ষার মুখে দুই দল
ইউপি নির্বাচন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের মাঠে গড়ায়নি। কিন্তু প্রার্থী বাছাইকে ঘিরেই বিয়ানীবাজারে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।
জামায়াতের লক্ষ্য—দ্রুত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠের সংগঠনকে নির্বাচনী শক্তিতে রূপ দেওয়া। বিএনপির চ্যালেঞ্জ—একাধিক দাবিদারের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য একজনকে বেছে নিয়ে বাকিদেরও একই নির্বাচনী প্ল্যাটফর্মে রাখা।
ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগে বিয়ানীবাজারে—প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষায় কে কতটা ঐক্য ধরে রাখতে পারে, আর কার প্রার্থী মাঠের ভোটের সমীকরণে এগিয়ে যায়, সেটাই এখন অপেক্ষার বিষয়।




