
পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক :
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক হিসেবে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জেলা পরিষদ, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা ও উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বিএনপির একাধিক নেতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে কাজ করা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে সিলেটের দুই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভাগজুড়ে এমন মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পায় বিএনপি। কেবল সিলেট-৫ আসনে দলীয় কোন্দলের কারণে সামান্য ব্যবধানে জোট প্রার্থী পরাজিত হন। ওই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পান মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন (বহিষ্কৃত)। ফলে ভোট বিভাজনের সুযোগে জামায়াত জোটের প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসান বিজয়ী হন।
অন্য আসনগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও বিএনপির প্রার্থীরা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েননি। নির্বাচনী কৌশলের কারণে অধিকাংশ আসনেই জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় দলটি।
নির্বাচনের পর ইতোমধ্যে কয়েকজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হুমায়ুন কবির সিলেট-২ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির পক্ষে ভূমিকা রাখার কারণে নির্বাচনের আগে তাকে দলের চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা থেকে যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। পরে ওই আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর লুনাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর দলীয়ভাবে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়।
অন্যদিকে সিলেট-৩ আসনে দীর্ঘদিন প্রচার চালালেও আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়নি। তার পরিবর্তে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিককে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে কাইয়ুম চৌধুরীকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার নেতৃত্বে সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিজয়ী হয় বিএনপি। দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে তাকে সিসিক প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন শূন্য পদেও নজর রয়েছে বিএনপি নেতাদের। জেলা ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভার প্রশাসক পদ ছাড়াও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পেতে আগ্রহী তারা।
এ তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। এবারের নির্বাচনে তিনি সিলেট-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী।
এ ছাড়া সিলেট-৩ আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার এম এ সালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহসভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলনের সঙ্গে থেকেছেন দলের নেতাকর্মীরা। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।”