
পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন ডেস্ক :
সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট সড়কের একটি পুলিশ চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশির সময় একটি প্রাইভেটকার আটকের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ভোলাগঞ্জ ফাঁড়ির এসআই কামরুল আলম। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালালে ভেতর থেকে পুলিশের একটি ওয়াকিটকি এবং একটি ‘চাইনিজ কুড়াল’ উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সড়কে অতীতে ডাকাতির ঘটনা থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে পুলিশ দুইজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের একজন কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিক লিটন মাহমুদ বলে জানা গেছে।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোবাশ্বের হোসেন জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে উদ্ধার হওয়া ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার—দুটিই এসআই কামরুলের ব্যবহৃত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে গাড়িতে ধারালো কুড়াল থাকার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তের স্বার্থে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই এসআই কামরুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানায় ওয়াকিটকি হারানোর অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে আটক হওয়া প্রাইভেটকার সম্পর্কে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুর রহমান খান জানিয়েছেন, ওয়াকিটকি হারানোর বিষয়ে জিডি করা হলেও গাড়ি নিয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এদিকে, এয়ারপোর্ট থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর এসআই কামরুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে তার বিরুদ্ধে পূর্বের নানা অভিযোগও। ভোলাগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর পরিবহনে চাঁদাবাজির একটি চক্র তার প্রভাবের আওতায় পরিচালিত হতো। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে পাথরবাহী গাড়ি আটক রাখা হতো এবং পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। কিছু গাড়িতে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের ব্যবস্থাও ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন দাবি করেছেন, ট্রাক্টর ও পাথরবাহী গাড়ি আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে, এমনকি নির্বাচনের আগের সময়েও। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
বর্তমান ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—সরকারি ওয়াকিটকি দায়িত্বস্থলের বাইরে একটি প্রাইভেটকারে কেন ছিল, গাড়িতে উদ্ধার হওয়া কুড়ালের উদ্দেশ্য কী, এবং ওয়াকিটকি হারানোর জিডির সময়কাল ও আটক ঘটনার মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না। একই সঙ্গে পূর্বের চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে বিবেচনায় আসছে।
পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। মামলার অগ্রগতি ও বিভাগীয় অনুসন্ধানের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।